জুলাই বিপ্লবে গুলিবিদ্ধ ভিক্ষুক আয়েশা বেগমের (৭৬) সব দায়িত্ব নিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। গত মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়েশা বেগমকে রিকাবিবাজার এলাকায় একটি ঘর বরাদ্দ দেন তিনি। সেই সাথে তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার ও ওষুধপথ্য সরকারিভাবে গ্রহণের দায়িত্ব নেন তিনি।
যদিও গুলিবিদ্ধ আয়েশার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মুহূর্তে তিনি সেই ঘরে উঠতে পারছেন না, কিন্তু পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে তিনি ঘরে উঠবেন। এ ছাড়া, বৃদ্ধ আয়েশাকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে মানিকপুর এলাকায় বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন ভিক্ষুক আয়েশা বেগম। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় সেসময় বিষয়টি ধরা না পড়লেও ঘটনার তিন মাস পর গত ১৭ নভেম্বর এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায় তার পায়ে বুলেট রয়ে গেছে। আয়েশা বেগমের স্বামী ও সন্তান কেউ নেই। বাড়ি চাঁদপুরে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে স্বামী লতিফ সরদারের মৃত্যুর পর প্রায় এক যুগ আগে মুন্সীগঞ্জ শহরে চলে এসেছিলেন তিনি। ভিক্ষাবৃত্তি করে চলেন। স্বামী-সন্তানহীন বয়সের ভারে ন্যুব্জ আয়েশা বেগমকে এতদিন পায়ে বুলেট নিয়েই ভিক্ষা করতে হয়েছে। এবার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার সব ভার গ্রহণ করলেন।