‘কতো সাংবাদিকইতো ছবি তুইল্লা নিছে, ব্রিজ হইল কই? নির্বাচন আসলে শুনতাম পাশ করলে এইবার অমুক এমপি, তমুক চেয়ারম্যান নদীর ওপর ব্রিজ কইরা দিবো। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না।’ আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টান বলাকী গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আব্দুল লতিফ।
জানা যায়, উপজেলা হোসেন্দী ইউনিয়নের টান বলাকী ও চর বলাকী গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মেঘনার শাখা নদী। স্বাধীনতা হওয়ার পর থেকে এ নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস আর সান্তনা পেলেও নদীর ওপর সেতু বাস্তবায়ন হয়নি। কাঠ বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন দুই গ্রামের বাসিন্দাদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, হোসেন্দী ইউনিয়নের নদীবেষ্টিত চর বলাকী, টান বলাকী ও ভাটি বলাকী গ্রাম। তিন গ্রামের মানুষ চরবলাকী খেয়াঘাট দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে আসা-যাওয়া করে। ভাটি বলাকী ও টান বলাকী গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে মেঘনা নদীর শাখা নদীটি। ওই নদীর ওপর কাঠ ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত সাঁকো দিয়ে গ্রামবাসীকে যাতায়াত করতে হয়। সাঁকোটি সংস্কারে কেউ এগিয়ে না আসায় দুর্ঘটনা এখানে নিত্যদিনের ব্যাপার। গ্রামবাসী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

চর বলাকী গ্রামের সায়লা বেগম (৩০) জানান, জরাজীর্ণ সাঁকোটি দিয়ে নদী পারাপারে বেশি সমস্যায় পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা।
টান বলাকী কলেজের শিক্ষার্থী আক্তার হোসেন জানান, সাঁকোটির পাটাতনের কাঠের বেশির ভাগ ঘুণে ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে পাটাতনের কাঠে পা দেবে গেলে আতঙ্কিত হলেও বাধ্য হয়ে মানুষকে যেতেই হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নবি হোসেন বলেন, উপজেলা সদরে ব্যবসাবাণিজ্য, হাট-বাজার, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যেকোনো কাজে এই সেতুর ওপর দিয়েই নদীর দুই পাশের বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে সেতুটি পার হতে হয়।