মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। মূল ঠিকাদারের লাইসেন্স ও নাম ব্যবহার করে সাব-ঠিকাদার স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী লোকজন নিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাতের বেলায় ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের কিছু ভিটিবালি ও ডাস্টমিশ্রিত কিছু খোয়া নির্মাণাধীন ভবনের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্মাণশ্রমিকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, এই খোয়া ও মাটি দিয়ে আর কাজ করা হবে না। দ্রুত এগুলো সরিয়ে নেয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী, শরীফ বিশ্বাস, জাহাঙ্গীর আলম, হারুনুর রশিদসহ অনেক বলেন, ভবন নির্মাণের ঢালাই কাজেও বালু, সিমেন্ট ও খোয়ার আনুপাতিক হার মানা হয়নি এবং গ্রেড-ননগ্রেড রড দিয়ে পিলারের ঢালাই দায়সারাভাবে করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে গিয়ে সাক্ষাৎ মেলেনি প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়ার সাথে। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের নামে রাজনৈতিক মামলা থাকায় তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেন না। মাঝে মাঝে আসলেও বেশিক্ষণ অবস্থান করেন না।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস মিয়া জানান, নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন হয় ২০২৩ সালে আর কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। নির্মাণকাজের তদারকির জন্য বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আব্দুল বারেককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে।
নির্মাণকাজ তদারকি কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল বারেক জানান, কোন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ হচ্ছে, ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদার কে এবং কত টাকা বাজেটের কাজ এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। কারণ, তার কাছে কাজের সিডিউলের কোনো কপি নেই। ইঞ্জিনিয়ার যেদিন সাইড পরিদর্শনে আসেন তিনি কেবল সেদিনই উপস্থিত থাকেন। এলাকার পল্লী চিকিৎসক ফজলুল হক ইট সরবরাহ করেন, সাইফুল ও সাঈম ভরাট বালু সরবরাহ করেন। রড সিমেণ্টসহ আনুষঙ্গিক সামগ্রী ঠিকাদারের লোকজন ঢাকা থেকে নিয়ে আসেন। নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়াররা ভালো বলতে পারবেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এস রাসেল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো: রাসেল মোবাইল ফোনে বলেন, কোনো নির্মাণকাজই শতভাগ সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ইঞ্জিনিয়ার এবিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। কাজের প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হলেও বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত কোন সাইনবোর্ড কেন দেয়া হয়নি প্রশ্নে তিনি জানান, বাজেট না থাকায় সাইনবোর্ড দেয়া হয়নি।
মানিকগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: হামিদুল ইসলাম জানান, এ কাজের ঠিকাদার মো: রাসেল এবং সাব-ঠিকাদার মো: ফোরকান। এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু মাদকাসক্ত ব্যক্তি ঠিকাদরের লোকজনের কাছে কিছু টাকা পয়সা দাবি করেছিল। সেটি না দেয়ায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ তুলছে। দীর্ঘ এগারো মাস অতিবাহিত হলেও কোনো সাইনবোর্ড কেন দেয়া হয়নি প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঠিকাদারকে বহুবার তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি গুরুত্ব
দেননি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুজাহিদুল ইসলাম আলিফ জানান, কাজের সিডিউলের একটি কপি অবশ্যই নির্মাণকাজের কমিটির কাছে থাকবে এবং কাজ শুরু হওয়ার প্রারম্ভেই সাইনবোর্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। এখন পর্যন্ত এগুলো কেন দেয়া হয়নি খোঁজ নেয়া হবে। মাঝখানে কিছু নিম্নমানের বালু ও খোয়া কাজে লাগানোর জন্য ওখানে আনা হয়েছিল। ইনফরমেশনের ভিত্তিতে সেগুলো রিজেক্ট করে দেয়া হয়েছে।



