রামগড় স্থলবন্দর হয়ে ভারত থেকে সড়ক পথে পণ্য রফতানি-আমদানির জন্য ৩৮ কিলোমিটারের বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ ১৭ মাসে ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বাকি ৬০ শতাংশ কাজ শেষ করতে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। সড়কটি লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) মাধ্যমে প্রশস্তকরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ অর্থায়নে গত বছরের জুন মাস থেকে সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ভারত সরকারের এলওসি-৩ এবং বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার ২২৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল দিল্লিতে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৬৩২ কোটি টাকা। অন্যদিকে ৫৯৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ঋণ দেবে ভারত সরকার। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৪৯.২০ মিটারের ৯টি সেতু ও ১০৮ মিটারের ২৩টি কালভার্ট ও ৩৮ ফুট প্রস্থের ৩৮ কিলোমিটার সড়ক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরত্বে রামগড় স্থলবন্দরটি ব্যবহার করে মাত্র তিন ঘণ্টায় পণ্য যাবে ভারতে। এ ছাড়াও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের নানা কর্মকাণ্ডে এ সড়ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে অন্য একটি প্রকল্পে এ সড়কে ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে জাইকার অর্থায়নে রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত ১৬টি সেতু ও কালভার্টের কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসিএল। সেতু ছাড়াও সেতুর পাশে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ২৪ মে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্থকরণের কাজ ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন সাবেক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২০২৩ সালের জুন মাসে সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ পেয়েছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অশোকা বিল্ডকন লিমিটেড।
সরেজমিনে মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট ও করেরহাটে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বারইয়ারহাট, করেরহাট, হেঁয়াকোসহ বিভিন্ন অংশে আংশিক সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলি মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত ১৭ মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আমরা ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৩৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৮ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে।
বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক
১৭ মাসে প্রশস্তকরণ কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ
রামগড় স্থলবন্দর হয়ে ভারত থেকে সড়ক পথে পণ্য রফতানি-আমদানির জন্য ৩৮ কিলোমিটারের বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ ১৭ মাসে ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বাকি ৬০...



