বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত শিমুলের লাশ চার মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) শহরের নামাজগড় আঞ্জুমান-ই গোরস্থান থেকে এ লাশটি তোলা হয়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক জানান, আদালতের নির্দেশে শিমুলের লাশ কবর থেকে তোলার পর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে আবারো দাফন করা হয়েছে। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট শহরের ঝাউতলা এলাকায় ছাত্র-জনতার একদফা আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শিমুল সরদার। তিনি দর্জি ছিলেন। শহরের দক্ষিণ বৃন্দাবনপাড়ায় কাজ করতেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিমু বেগম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ১৩৫ জন নেতাকর্মীর নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বগুড়া শহরের ঝাউতলা এলাকায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে এবং সাবেক এমপি মজিবর রহমান মজনু ও রাগেবুল আহসান রিপুসহ চারজনের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা পিস্তল, কাটা রাইফেল, আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা চালান। ইনডিপেনডেন্ট টিভির উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান বিলু, দৈনিক জনকণ্ঠের বগুড়া প্রতিনিধি মাহামুদুল আলম নয়ন ও দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি জে এম রউফসহ এজাহারভুক্ত ৩৩ জন ককটেল ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেন। তখন দর্জি শিমুল সরদার ছাত্র-জনতাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান। এ সময় বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টি জামান নিকেতা, পৌর কাউন্সিলর আরিফুর রহমান ও আবদুল মতিনসহ অন্য আসামিরা গুলি ছুঁড়েন। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিমুল সরদার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়রা শিমুলকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।



