চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্যমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার মাঠটি দখল করে মাসব্যাপী এ বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা এ ব্যাপারে মেলা আয়োজকদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। অপরদিকে মেলার আয়োজকরা বলছেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সোসাইটির নামে চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা কিছু লোক মিরসরাই স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আয়োজন করছে। এরই মধ্যে তারা স্টেডিয়ামের একটি বড় অংশজুড়ে স্থাপনা নির্মাণ কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ মাঠে খেলাধুলা করে। শীতের বিকেলে সাইকেল চালানো শিখতেও মাঠে আসে স্থানীয় কিশোর-কিশোরীরা। তা ছাড়া নাগরিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পেশাজীবী ও বয়োবৃদ্ধরা নিয়মিত মাঠে এসে হাঁটাহাঁটি করেন, খেলাধুলা ও ব্যায়াম করেন। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এক মাসের জন্য সরকারি এ মাঠটি বরাদ্দ দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজনের কারণে স্টেডিয়াম তৈরির কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানও অসন্তোষ প্রকাশ করছে। তারাও মেলা বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
সমাজকর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, শীতের এ সময়টা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশু-কিশোররা খেলাধুলার জন্য বেশ অবকাশ পায়। অথচ এ সময়টাতেই মাসব্যাপী বন্ধ রাখা হবে মাঠটি। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা এ মেলা আয়োজনের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মেলা উদ্যোক্তা বাংলাদেশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এম এম মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের তহবিল গঠনের জন্য আমরা এ মেলার আয়োজন করছি। এ মাঠে খেলাধুলা হয়, এটা আমরা জানতাম না। এখানে আগেও মেলা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এ মেলার আয়োজন করছি মাত্র। মেলাটি সফল করতে সবার সহযোগিতা চাচ্ছি।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, মেলার আয়োজকরা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। তবে এর বিরুদ্ধে ঠিকাদার ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি এসব অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধŸতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।



