আগামী ১৬ ডিসেম্বর র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের বাস সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ সার্ভিসের আওতায় গাজীপুর থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটিসির শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস চলাচল করবে। তবে আগামী জুনে এ প্রকল্পের সার্ভিস পুরোপুরি চালু হবে। শনিবার বিআরটি প্রকল্প পরিদর্শন শেষে গাজীপুর মহানগরীর শিববাড়ি বিআরটি স্টেশনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো: এহছানুল হক।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পে অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয়েছে, অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। বহুদিন ধরে মানুষ এ সার্ভিসের প্রতীক্ষায় আছে। এর একটা অবসান হওয়া উচিত। প্রাথমিকভাবে দুটি এসি বাস দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শিববাড়ি-এয়ারপোর্ট রুটে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিআরটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। সড়কটি চালু হলেও বেশ কিছু সমস্যা থেকে যাবে। এক দিনেই সেসব সমস্যার সমাধান হবে না। এ মুহূর্তে সড়কের প্রতিটি স্টেশনে ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে, যা মানুষ পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত নয়। শিগগিরই এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত আরো ১০টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের ৯৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের জুনে এই প্রকল্প পুরোপুরি ফাংশনাল করা সম্ভব হবে।
সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো: ইয়ামিন বলেন, প্রকল্পটি কবে চালু হবে, এ নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা উৎকণ্ঠা ছিল। স্বল্প পরিসরে হলেও আগামী ১৬ ডিসেম্বর আমরা ওই প্রকল্পের আওতায় বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করতে পারছি। শুরু হলে যেসব সমস্যা দেখা দেবে, সেগুলো আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করার চেষ্টা করব।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিআরটিসি চেয়ারম্যান মো: তাজুল ইসলাম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো: ইয়ামিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সচিব শামীম আরা, জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব বিনীতা রানী, জিএমপির উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মো: ইব্রাহিম খান, বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক রেজাউল করিম, সওজ ঢাকা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আসলাম আলী, বিআরটিসির পরিচালক অনুপম সাহা, ডিএমপির উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুল করিম, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদসহ সড়ক বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে শিববাড়ি থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ২০ টাকা, বোর্ডবাজার ৩৫, টঙ্গীর কলেজ গেট ৫০ টাকা ও এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ৭০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিরতি পথে এয়ারপোর্ট থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত ভাড়া ২৫ টাকা, বোর্ডবাজার ৪০, চৌরাস্তা ৫৫ টাকা ও শিববাড়ি ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।