ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ।
গতকাল রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি। এ সময় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ ও রোডম্যাপ তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের ব্যাপারেও জানান প্রক্টর।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ডাকসু নির্বাচন জরুরি বিষয়। আমাদের এ নির্বাচন নিয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়। ডাকসু নির্বাচনটি হয়ে গেলে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচে যাবে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা এগোতে পারব। জানুয়ারির শেষে কিংবা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। শিক্ষার্থীরা ডাকসুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির প্রকৃতি কেমন হবে তা নিয়েও কাজ করছে প্রশাসনের নবগঠিত কমিটি। কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন মহলের সাথে বসে তাদের পরামর্শ ও দাবি শুনছেন। সে আলোকে আগামী ১০ ডিসেম্বর ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করবেন প্রশাসনের নবগঠিত এই কমিটি। এ ছাড়াও নির্বাচনকালীন শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসন থেকে নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
এ দিকে গত ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ডাকসু ফের চালুর দাবি জানানো হয়। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন কর হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতবিনিময় সভায় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এতে বলা হয়, আগামী জানুয়ারির শেষে কিংবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রসংগঠনগুলো ঐক্যে পৌঁছেছেন বলে জানান সভায় উপস্থিত নেতারা। সভায় ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা একমত হয়েছি, জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ডাকসুসহ সারা দেশের ছাত্র সংসদ নির্বাচন শুরু হয়ে যাক। কারণ শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচিত বৈধ প্রতিনিধিদের দিয়েই যৌক্তিক দাবি প্রশাসনের নিকট জানাতে পারবেন।
গত চার বছর অচল থাকার পর ২০২৫ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সচল হতে যাচ্ছে ডাকসু। এর আগে ২৮ বছর অচল থাকার পর ২০১৯ সালের মার্চে নির্বাচনের মাধ্যমে সচল হয় ডাকসু। এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালে। এরপর করোনা ও প্রশাসনের খেয়ালিপনার কারণে চার বছর ধরে বন্ধ ছিল ডাকসুর দুয়ার। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আবার চিরচেনা রূপে ফিরতে যাচ্ছে ডাকসু।



