চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের হিঙ্গুলী ইউনিয়নের রসূলপুর আবাসন প্রকল্পে ৩৫টি ভূমিহীন পরিবারকে দেয়া ঘরে থাকে না ১১টি পরিবার। দীর্ঘদিন ঘরে না থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জিনিসপত্র। এতে করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। স্থানীয়দের দাবি, জনপ্রতিনিধিরা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ঘর বরাদ্দ দেয়ায় অনেক প্রকৃত ভূমিহীন বরাদ্দ পায়নি। না থাকা পরিবারগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের দেয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২১ মার্চ হিঙ্গুলী ইউনিয়নের রসূলপুর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি পরিবারকে দেয়া হয় সরকারি ঘর। দুই শতাংশ জমিসহ এসব আধা পাকা ঘরে রয়েছে একটি রান্না ঘর, টয়লেট ও দুইটি শয়ন কক্ষ। এ ছাড়া একটি বারান্দা রয়েছে।
সরেজমিন রসূলপুর আবাসন-২ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, ৩৫টি পরিবারের মধ্যে ১১টি নেই। এসব ঘরের দরজায় তালা দেয়া।
রসূলপুর আবাসন-২ প্রকেল্পর বাসিন্দা বৃদ্ধ এরশাদ উল্ল্যাহ বলেন, এখানে অনেক পরিবার আছে যারা বরাদ্দ পাওয়ার পর একদিনের জন্যও আসেনি। আবার অনেকে রয়েছে যারা কিছু দিন থেকে চলে গেছে। যেসব পরিবার ঘরে থাকেনা তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
আরো জানা গেছে, ৩৫টি পরিবার মধ্যে দুইটি রয়েছে হিন্দু পরিবার। তাদের একজন বলরাম। বলরামের পরিবার বরাদ্দ পাওয়ার পর বেশ কয়েক মাস ছিল। কিন্তু আট মাস পর্যন্ত তিনি আর আসেন না। এ বিষয়ে জানতে বলরামের মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, হিঙ্গুলী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন লীগের সভাপতি সোনা মিয়া দলীয় বিবেচনায় অনেকের জায়গা থাকার পরও ভূমিহীন দেখিয়ে ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। তার স্বজনপ্রীতির কারণে এমন অনিয়ম হয়েছে বলে জানান তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবাসনের এক নারী বলেন, যেসব পরিবার থাকে না তাদের নাম লিখে রেখেছি। এখনো অনেক গৃহহীন পরিবার প্রায় সময় এখানে আসে ঘরের জন্য। প্রশাসনের উচিত ওই ঘরগুলো প্রকৃত গৃহহীনদের দেয়া।
হিঙ্গুলী ইউপি চেয়ারম্যান সোনা মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ পাইনি।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, আমরা যখন ঘর বরাদ্দ শুরু করি তখন বিভিন্নজন এসে কান্নাকাটি শুরু করে। যারা ঘরে থাকে না তাদের পরিবারের নামগুলো আমাকে দিয়ে সহযোগিতা করবেন। প্রয়োজনে ওই সব পরিবারের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন পরিবারকে দেয়া হবে।