রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান আসাদকে আরো দু’টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) মামলা দু’টির তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।

দুপুরের দিকে আসামির উপস্থিতিতেই রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক ফয়সাল তারেক এ আদেশ দেন।

মামলা দু’টিতে গ্রেফতার দেখানোর পর আসামি পক্ষের আইনজীবী ইব্রাহিম হোসেন আসাদের জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন।

এদিকে আসাদকে আদালত চত্বরে ডিম, ইট ও বালু ছুড়ে মারেন ছাত্র-জনতা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নতুন যে দু’টি মামলায় আসাদকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সেগুলো বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বাদির নাম মো: রোকনুজ্জামান। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি মামলাটি করেন।

অপর মামলার বাদির নাম আবদুর রশিদ ফকির। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে ২৮ নভেম্বর তিনি মামলাটি করেন। দু’টি মামলা তদন্ত করছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) দু’জন উপপরিদর্শক (এসআই)।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ আদালত পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, দু’টি মামলাতেই এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক এমপি আসাদ। তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিকে আদালতে আনা হয়েছিল। আদালত মামলা দু’টিতে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আদালত তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৬ অক্টোবর রাজশাহীর মোহনপুর থানার একটি মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার হন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। মোহনপুর থানার আরেকটি মামলায় গ্রেফতার দেখাতে গত ৫ ডিসেম্বর তাকে আদালতে তোলা হয়েছিল। সেদিন তাকে দেখে আওয়ামী লীগের কর্মীরা 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন। তবে বৃহস্পতিবার আদালত চত্বর ছিল ছাত্র-জনতার দখলে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসাদকে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানো এবং তোলা হয়।