কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ২৯ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাকেশ দাস ও এস কে মাসুমকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: হান্নার রহিম ও ম. আবিরের নেতৃত্বে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
আটককৃত শিক্ষার্থী রাকেশ দাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের উপপ্রচার সম্পাদক ছিলেন।
শেখ মাসুমও একই ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের উপপ্রচার সম্পাদক। তারা দুইজনই ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা ই এলাহীর অনুসারী ছিলেন।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রথমে ক্যাম্পাসের পাশে থাকা একটি খাবার হোটেলের সামনে থেকে রাকেশকে আটক করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে গ্রেফতার করে নিয়ে যান।
অন্য দিকে শেখ মাসুমকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার পর আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ এসে নিয়ে যান।
তাদের আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস এম আরিফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা মামলার আসামি হিসেবে আমাদের কাছে দিয়েছে দুইজনকে। আমরা ডিবি অফিসে হস্তান্তর করেছি।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ করিম খান বলেন, আটককৃত ব্যক্তিদের নামে মামলা রয়েছে। তাই আমরা তাদেরকে আটক করেছি। আমরা তাদেরকে কোর্টে চালান করে দেবো।
শিক্ষার্থী আটকের বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: আবদুল হাকিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে বলে আমি দুই বিভাগের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এরপর আমি প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। প্রশাসন বলেছে ওদের নামে মামলা আছে। কোর্টে চালান করার পর আইনগতভাবে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনতে হবে।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা, ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আটককৃত দুই শিক্ষার্থীসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মো: সাখাওয়াত হোসেন একটি মামলা দায়ের করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি, চার শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের আসামি করা হয়েছে।