আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা হলেই দেশে কল্যাণ প্রতিষ্ঠা হবে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘মানুষের তৈরি করা আইন কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই মানুষের দুনিয়াবী কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি রয়েছে।’
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এখন মানুষ কথা বলছে পারছে। আপাতত একটা স্বস্তির পরিবেশ ফিরেছে। তাই এখন নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়তে হবে। নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ার সময় এসেছে। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। অন্য কারো স্বার্থ দেখেনি। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন। গণপিটুনির ভয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন নিজেদেরকে অপরাধী ভেবে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তারা জানে দেশে ফিরলে জনগণ কখনো তাদেরকে ছাড়বে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন নিয়ে তামাশা করেছে। দিনের ভোট রাতে করেছে। এরপর আবার তারা নিজেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ভোট করেছে। জনগণকে কখনোই ভোট দিতে দেয়নি। স্বৈরাচার যাতে আর প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে সে ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা আর ফিরতে পারবে না।’
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। আগামী নির্বাচনে খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সবাইকে কাজ করতে হবে। আল্লাহর আইন ছাড়া মানুষ শান্তি পাবে না। মানুষের আইন কখনোই সুখ-শান্তি দিতে পারে না।’
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রাসুল সা: শ্রমিকদের ভালোবাসতেন। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ভাতা প্রদান করতে হবে। শ্রমিকদের বেতন যাতে বাকি না থাকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। শ্রমিকদের উপর যাতে কোনো ধরনের অত্যাচার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শ্রমিক-মালিক এক থাকলে সোনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি না পেলে অশান্তি হয়। তা মালিক পক্ষের জন্যও শুভ হয় না। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিক-মালিক দ্বন্দ্বে শেষ হয়ে গেছে। সে কারণেই শ্রমিক-মালিক সবাইকে সবার সুযোগ সুবিধা বুঝে কাজ করতে হবে। শ্রমিকরা তাদের অধিকার পেলেই সম্মেলন সফল হবে। এজন্য সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।’
শ্রমিক কল্যাণ ফেডাশেনের রাজশাহী জেলা সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও নবনির্বাচিত সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদিরের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়। এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরীর প্রধান উপদেষ্টা ড. মাওলানা কেরামত আলী, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, ফেডারেশনের রাজশাহী জেলা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল খালেক, সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ আব্দুস সবুর, ফেডারেশনের রাজশাহী জেলার বিশেষ উপদেষ্টা গোলাম মুর্তজা ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ।
সম্মেলনে দু’বছরের জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো: কামরুজ্জামানকে সভাপতি, শফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ও এমদাদুল হককে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে কমিটির সভাপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এরপর নবনির্বাচিত সভাপতি ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অন্য সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।



