চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও বাড়েনি কাঙ্খিত সেবা। হাসপাতালে আধুনিক এক্সরে মেশিন থাকা থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার পাঁচ লাখ মানুষ। বাধ্য হয়ে রোগীদের অন্য জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় এক্সরে করাতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটিও দীর্ঘদিন নষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে ঢেকে যায় পুরো হাসপাতাল। ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীরা জানান, তাদের অধিকাংশ টেস্ট বিভিন্ন প্রাইভেট প্যাথলজি থেকে করে আনার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন হাসপাতালটিতে। লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতালজুড়ে অন্ধকার নেমে আসে। কিছু কক্ষে একটিমাত্র বাল্ব রয়েছে। কোনো কোনো কক্ষে একটি বাল্বও নেই। এসব কক্ষে জানলা দিয়ে যে আলোটুকু আসে, সেটুকুই ভরসা।
কাটাছরা ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা জোহরা বেগম বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে টিকেটের জন্য এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আধাঘণ্টা আগে বিদ্যুৎ চলে গেছে। আসার নাম নেই।
হাসপাতালে পাঁচজন পরিচ্ছন্ন কর্মীর পদ থাকলেও আছে মাত্র একজন। নিরাপত্তা কর্মী নেই একজনও। ফলে দিনে কিংবা রাতে নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন সবাই। হাসপাতালটিতে ২৭ জন চিকিৎসক থাকলেও তাদের অনেককেই অনুপস্থিত দেখা গেছে।
হাসপাতালে একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বিকল থাকার পর সম্প্রতি সচল করা হয়েছে। কিন্তু রেডিওগ্রাফারের অভাবে সেটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলা ১৯৯৩ সালের ১১ অক্টোবর তৎকালীন সংসদ সদস্য এম এ জিন্নাহ এক্স-রে মেশিনটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর কয়েক মাস সচল থাকলেও তা বিকল হয়ে যায়। বিকল হওয়ার পর দীর্ঘদিন মেশিনটি একটি কক্ষে তালাবদ্ধ ছিল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার মোহাম্মদ রাশেদ জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এক্স-রে মেশিন নষ্ট থাকার পর সচল করা হয়েছে। কিন্তু রেডিওগ্রাফারের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসে আট হাজারের বেশি রোগী আউট ডোরে চিকিৎসা সেবা নেন। দুই হাজারের বেশি রোগী ইনডোরে সেবা নেন। এ ছাড়া প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী জরুরি বিভাগ থেকে সেবা নেন। সরকারি এক্স-রে মেশিনে কোনো রোগীর এক্স-রে করা হলে তাতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়। অন্য কোথাও থেকে করা হলে খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মিনহাজ উদ্দিন বলেন, এক্সরে মেশিনটি খুবই আধুনিক ও ব্যবহারের উপযোগী। কিন্তু পুরো চট্টগ্রামে একজন রেডিওগ্রাফারও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই মেশিনটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জেনারেটরটি দুই বছর আগে মেরামত করা হয়েছিল, কিন্তু আবার সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামতের জন্য এখনো সরকারিভাবে বরাদ্দ ম্যানেজ করা যায়নি।



