গাজীপুরে বন্ধ করে দেয়া দু’টি পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। পরে শ্রমিকদের দাবি মালিকপক্ষ মেনে নিলে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল সোমবার মহানগরীর কোনাবাড়িতে স্থানীয় এম এম নিটওয়্যার লিমিটেড ও মামুন নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ ও অবরোধ করে।
আন্দোলনরত শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, গত ৩ নভেম্বর শ্রমিক বিক্ষোভ চলাকালে শিল্প পুলিশের এক সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় শিল্প পুলিশ বাদি হয়ে
পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬০ জন শ্রমিককে আসামি করে মামলা দায়ের করে। ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ১৭ ডিসেম্বর শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেন। এর জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক মহানগরীর কোনাবাড়ি এলাকার এম এম নিটওয়্যার ও মামুন নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। গত রোববার সকালে শ্রমিকরা কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে কারখানার প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ওই দিন বিকেলে শ্রমিকদের সাথে কারখানা কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসার শর্তে তারা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয়।
ওই সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে শর্তসাপেক্ষে কারখানায় কাজে যোগদানের কথা জানায়। কিন্তু শ্রমিকরা তা মেনে নেয়নি। পরদিন সোমবার সকালে ওই দু’টি কারখানার শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বন্ধ করে দেয়া ওই দু’টি পোশাক কারখানা বিনা শর্তে খুলে দেয়ার এবং শ্রমিকদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়কের ওপর থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে বিনা শর্তে আন্দোলনরত শ্রমিকদের মেনে নিয়ে কারখানা দু’টি খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় মালিকপক্ষ। শ্রমিকরা মালিকপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে তাদের আন্দোলন স্থগিত করে সড়কের অবরোধ তুলে নিলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
জিএমপির কোনাবাড়ি থানার ওসি জানান, কারখানা দু’টির মালিকপক্ষ বিনা শর্তে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে কারখানাগুলো খুলে দেয়ার ঘোষণা দিলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর শ্রমিকরা মহাসড়কের অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।



