মেঘনা নদীতে জাহাজে শ্রমিকদের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার করা না হলে কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন এবং নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু মহালের ইজারার নামে চলন্ত বাল্কহেডের গতিরোধ করে জোরপূর্বক টোকেনের নামে চাঁদাবাজি সন্ত্রাস ডাকাতি ও শ্রমিক হয়রানি নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর সারুলিয়া ঘাট এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের আওতাধীন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন সারুলিয়া ঘাট শাখা। সংগঠনের সারুলিয়া ঘাট শাখার সভাপতি মো: শামীমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির পান্না, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রায়হান, জহির, শাওন, মিজান, সাইফুল, সোহাগ, উপদেষ্টা রুবেল আহমেদ, মিরাজ, তুহিন প্রমুখ। মানববন্ধনে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের হামলার শিকার শ্রমিকরাও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে তারা বলেন, মেঘনা নদীর নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, ষাটনল, মোহনপুর, মতলব, কাঁচিকাটায়, মরিচা লঞ্চঘাট, নরসিংদী, মহিষের চর, আড়াইহাজারসহ বেলতলী, দশানী, নরিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু মহাল রয়েছে। অবৈধ বালু মহালের লোক চলন্ত বাল্কহেডের গতিরোধ করে জোরপূর্বক টোকেনের নামে চাঁদাবাজি সন্ত্রাস শ্রমিক হয়রানি নির্যাতন করছে। চাঁদা না দিলে শ্রমিকদের মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল লুটে নেয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই বাল্কহেড শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নৌযান শ্রমিকরা অবৈধ বালুমহালের ইজারাদার ও তাদের পালিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ডাকাতদের কবল থেকে মুক্তি চায়। এসব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ডাকাতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার বলেন, গতকালও মেঘনা নদীতে বেশ কয়েকটি বাল্কহেডে ও জাহাজে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে সুকানি গ্রিজারদের মারধর করে টাকা ও মোবাইল লুটে নিয়েছে। মেঘনা নদীর মাঝেরচর এলাকায় সোমবার দুপুরে আল বাকার নামে একটি জাহাজে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অন্তত ৯ জনকে কুপিয়েছে ডাকাতরা। যার মধ্যে ইতোমধ্যে সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা এই নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে নৌযান শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালনসহ কঠোর কর্মসূচি হাতে নিতে বাধ্য হবে।



