ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যুবলীগ নেতার বাড়িতে শারমিন ওরফে হরলুজা বেগম নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় নিহতের বড় মেয়ে রুমা আক্তার বাদি হয়ে যুবলীগ নেতার ছেলে ফারহান রনির (২৭) বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
জানা গেছে ঘটনার দিন মঙ্গলবার ভোরে আসামি ফারহান রনি হরলুজা বেগমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেয়। তবে গ্রেফতার ফারহান রনির অসংলগ্ন কথায় হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উৎঘাটন হয়নি।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার সকাল ৬টায় প্রতিদিনের মতো হরলুজা বেগমের স্বামী নুরুল ইসলাম কুলা বিক্রির জন্য ঘর থেকে বের হয়ে যান। এর ২০ মিনিট পর আসামি ফারহান রনি তার বাবার অসুস্থতার কথা বলে হরলুজাকে রহিমপুর গ্রামে নিজেদের বাড়ির পরিত্যক্ত একটি ভাঙ্গা টিনের ঘরে ডেকে নিয়ে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ৩০০ গজ দূরে একটি জমিতে পুঁতে ফেলেন। মাথাবিহীন বাকি অংশ কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পায় হরলুজার মাথাবিহীন দেহ ততক্ষণে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ফারহান রনিকে স্থানীয় গাজীর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি। পরে হরলুজার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর মর্গে পাঠানো হয়। গ্রেফতার ফারহান রনিকে গতকাল বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যার কারণ নিয়ে গ্রেফতার ফারহান রনি অসংলগ্ন কথা বলছেন। একবার বলছে তার কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে হরলুজা তাবিজ করেছিলেন, আবার বলছে হরলুজার এক মেয়েকে সে বিয়ে করতে চেয়েছিল। তবে সঠিক তথ্য দেয়নি।
এ দিকে অজ্ঞাত কারণ দেখিয়ে হরলুজার বড় মেয়ে ফারহানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলেও ধারণা করছেন, চুরি করা হাঁস রান্নার জন্য তার মাকে রনি ডেকে নিয়ে যায়। তবে তার মা এতে অপারগতা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে রনি।
স্থানীয়রা জানান, খুনি ফারহান রনি আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহনেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে। রনির দাদার আমল থেকে হরলুজা তাদের জমিতে ঘর তুলে স্বামী ও মেয়েদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন। রনিকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন হরলুজা। এ অবস্থায় হরলুজাকে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি স্থানীয়রা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। সবাই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘাতক ফারহান একেক সময় একেক কথা বলছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।



