মাটিয়ামালী পাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: মুঞ্জুরুল হক। তিনি শিক্ষাকতার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। একই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রবিউল করিম। তারা দুজনই ২৪ এর বিপ্লবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপরে তাড়াশের খালকুলায় এলাকায় সংগঠিত হামলা-মামলার আসামি।
দুজনই এক মাসের অধিক সময় জেলহাজতে আছেন। জেলে থাকা অবস্থায় তারা কর্মস্থল মাটিয়ামালী পাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের বেতন ভাতার সিটে স্বাক্ষর করেছেন। যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এস এম রুহুল আমিনও নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। এ কারণে তিনি চাকরি বিধি অমান্য করে ওই নেতার বেতন ভাতার সিটে নিজেই জাল স্বাক্ষর করে তাদের সহযোগিতা করছেন। অথচ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীর হাজিরা খাতায় মুঞ্জুরুল হক ও রবিউল করিমের উপস্থিতির কোনোই স্বাক্ষর নেই। কিন্তু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না থাকলেও গত নভেম্বর মাসের বেতন সিটে স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক এম এম রুহুল আমিন ২০১৪ সালে নিয়ম না মেনে নিজের পছন্দ মতো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা নিয়ে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম গোলাম রেজা সাথে বিরোধ জড়ান। এক পর্যয়ে ওই কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে এলে তিনিসহ দলীয় লোকজন নিয়ে শিক্ষা কর্মকতা এস এম গোলাম রেজাকে বিদ্যালয়ের ভেতরেই মারধর করে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। যা নিয়ে তাড়াশ থানায় একটি মামলা হয়। সে মামলায় থানা পুলিশ তদন্তের পর আসামি প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনসহ সব আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মাটিয়ামালী পাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এম রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই। বিদ্যালয়ে আসেন। আসলে সাক্ষাতে কথা বলব।
এ দিকে জেলে থেকেও বেতন ভাতার সিটে স্বাক্ষর করার অনৈতিক বিষয়টি নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো: মাহমুদ হাসান বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুইচিং মং মারমার কাছে অভিযোগ করেন। আর অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষককে আমার দফতরে ডেকেছি। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।