বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মেধাবীদের মুখোমুখি শিবির’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। গত রোববার ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র অডিটোরিয়ামে (টিএসসি) এ আয়োজন করে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শিশির মনির, ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি ও হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব, বর্তমান কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম, ঢাবি শাখার সভাপতি সাদিক কায়েম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সমালোচক হিসেবে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি, সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন, ঢাবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি অর্পিতা গোলদার ও সাধারণ সম্পাদক আদনান মুস্তারি।
অনুষ্ঠানটি ৪টি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে সাবেক নেতারা শিবিরের পরিচিতি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা নিয়ে বক্তব্য দেন। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন ঢাবি শিবিরের সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ।
উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ঢাবি শিবির সভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, শিবিরের যে ৫ দফা কর্মসূচি সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীবান্ধব। শিবিরের সিলেবাস পুরোপুরি শিক্ষার্থীবান্ধব। শিবিরের সাথে সম্পৃক্তদের নিয়মিত রিপোর্ট রাখতে হয়। একজন শিক্ষার্থীকে দেশপ্রেমিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই করে শিবির।
মির্জা গালিব বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে এমন কিছু ক্রিটিক্যাল মোমেন্ট আসে যখন তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়। যারা সৎ, আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি করে, যারা মনে করে যে হিমালয় পর্বত আমরা উল্টিয়ে ফেলে দিতে পারি। ক্যাম্পাসে শিবির পরিশীলিত রাজনীতি করে। অন্যদেরও পরিশীলিত রাজনীতি করা উচিত।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, একজন ছাত্রকে একাডেমিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক, বৈজ্ঞানিকসহ সব পর্যায়ে যা কিছু প্রয়োজন তা ছাত্রশিবির বাস্তবায়ন করে।
শিশির মনির বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি শিবির লেজুড়বৃত্তি করবে না। তারা দলবাজি করবে না। নরমাল লাইফ লিড করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখন কোনো আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল বের হয় না। আমরা চাই শিবির আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল প্রকাশে নেতৃত্ব দেবে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে নেতৃত্ব দেবে।
দ্বিতীয় পর্বে শিবিরের সমালোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তৃতীয় পর্বে শিবিরের আমন্ত্রিত আলোচকরা ঢাবি সাংবাদিক সমিতি ও ঢাবি ডিবেটিং সোসাইটির নেতাদের উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেন। চতুর্থ পর্বে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে প্রশ্ন নিয়ে করা হয় এবং তৎক্ষণাৎ আলোচকরা তার উত্তর দেন।
দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ঢাবির দুই সংগঠনের নেতারা ছাত্রসঙ্ঘের ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা, শিবিরের রগকাটা রাজনীতি, গুপ্ত রাজনীতি, রাজনৈতিক অতৎপরতাসহ বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
এই পর্বে মির্জা গালিব বলেন, ইতিহাস হচ্ছে পলিটিক্যাল ভার্সন। আমেরিকানদের ইতিহাস কৃষ্ণাঙ্গদের কাছে অন্য রকম। হোয়াইটদের কাছে একরকম। একটি নির্দিষ্ট ইতিহাস ভারতীয়দের কাছে একরকম, পাকিস্তানিদের কাছে আরেক রকম। তাহলে কোন ইতিহাসটা সত্য? ঠিক তেমনি বাংলাদেশে কি কখনো ৭১-কে নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল?
তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের ১৯৭১ নিয়ে ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা আছে। যদি ৭১ নিয়ে একাডেমিক ডিসকাশনের সুযোগ দেন তাহলে আমরা একাত্তরের বিষয়ে জবাব দেবো।



