চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ৩৭ জন বেকার যুবক উন্নত জীবনের আশায় ও পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ইতালি যাওয়ার পথে দালালদের হাতে বন্দী হয়েছেন। দীর্ঘ ৯ মাস অতিবাহিত হলেও সন্তানদের ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পরিবারগুলো। মুক্তিপণ দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবারগুলো। আতঙ্কিত পরিবারগুলো ভিডিও কল দিলেই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছে দালাল চক্র। তবে পুলিশ ইতোমধ্যে এ মানব পাচার চক্রের অন্যতম সদস্য আলমডাঙ্গার বেলগাছি গ্রামের ইয়াছিন মালিতার ছেলে শফিকুল ইসলাম ঠাণ্ডুকে (৫৫) আটক করলেও বাকিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইতালি নেয়ার পথে লিবিয়ায় দালালদের হাতে দীর্ঘ ৯ মাস বন্দী হয়ে আছেন আলমডাঙ্গার ৩৭ জন যুবক। অভিযোগ উঠেছে, আলমডাঙ্গার বেলগাছি গ্রামের জীবন আহম্মেদ ৩৭ জন নিরীহ যুবককে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে না পাঠিয়ে প্রতারণা করছে। এ চক্রের সাথে রয়েছে জীবনের ভাই লিবিয়া প্রবাসী বেলগাছি গ্রামের সাগর। আরো জানা যায়, জীবন আহম্মেদ ইতালিতে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৩ লাখ করে টাকার বিনিময় তাদের দুবাই থেকে ইতালি পাঠানো হবে বলে জানায়। তার প্রলোভনে পড়ে ওই গ্রামের ঠাণ্ডুর ছেলে জীম ও ঠাণ্ডুর স্ত্রী বেদানা খাতুন, বজলুর রহমানের ছেলে সবুজের মাধ্যমে হাউসপুর গ্রামের মামুনুর রশিদ, খেজুরতলা গ্রামের মিঠুন, একই গ্রামের তুহিন হক, তিতাস, জুয়েল রানা, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামের সজিব হোসেন, কাবিলনগর গ্রামের বিপ্লব হোসেন, ঘোলদাড়ি গ্রামের শ্রী সনজিত কুমার, কেশবপুর গ্রামের মামুন আলী, চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের তরিকুল ইসলামসহ ৩৭ জন বিদেশের উদ্দেশে পাড়ি জমায়।

তারা আরো বলেন, বিভিন্ন তারিখে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা করে পরিশোধ করে। টাকা পেয়ে জীবন গং ভুক্তভোগীদের দুবাই নিয়ে যায়। দুবাই থেকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা লিবিয়া নিয়ে যায়। লিবিয়ায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও মোবাইলের মাধ্যেমে দেশে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছে। টাকা নেয়ার পরও তারা ওইসব যুবকদের সেখানে আটকে রেখে জন প্রতি আরো ২২ লাখ টাকা দাবি করছে।
যাদবপুর গ্রামের আব্দুস সুবহানের স্ত্রী ছাবিনা খাতুন, খেজুরতলা গ্রামের নাসির উদ্দিনের স্ত্রী সাবানা খাতুনসহ অনেকে আলমডাঙ্গা থানায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বলেন, আমরা ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি এবং মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা দালালদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছি। একইসাথে এটা নিয়ে সিআইডির সাথে কথা হয়েছে। তারাও প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনসহ অপরাধী সনাক্ত ও আটকে কাজ করবে।