চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বত্র এই ভরা মৌসুমেও কৃত্তিম সার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কোনোভাবেই স্বাভাবিক হচ্ছে না নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের কাছে মিলছে না সার। এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সার কিনছেন চাষিরা।
চাষিরা জানান, এই ভরা মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম উপায়ে সারের সঙ্কট ঘটিয়ে তাদেরকে বিপাকে ফেলেছেন। অবশ্য নিতান্ত প্রয়োজনে তারা বেশি দামে সার কিনতে পারছেন। বেশি দাম দিলে সারের কোনো সঙ্কট পরিলক্ষিত হয় না। এতে কৃষকদের ফসলের আবাদী খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সেই সাথে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় রবি মৌসুমে সারের চাহিদা বাড়ে। চলতি মৌসুমে ৯৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে রবি ফসলের আবাদ হবে। বর্তমানে বেশিরভাগ জমিতেই ভুট্টার আবাদ হয়েছে। সাধারণত ভুট্টা চাষের শুরুতেই সারের প্রয়োজন হয় বেশি।
এদিকে চাষিদের কাছে সার সরবরাহ ঠিক রাখতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের পক্ষ থেকে দফায় দফায় সার ডিলারদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সার সঙ্কটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করতে বারবার হুঁশিয়ার করে দেন জেলা প্রশাসক। এরপরও কৃত্রিম সার সঙ্কট কাটছে না চুয়াডাঙ্গায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে ভুট্টা চাষের তোড়জোড় শুরু হলে জেলাজুড়ে নন-ইউরিয়া সারের সঙ্কট শুরু হয়। সরকারি ডিলারদের কাছে যখন ভর্তুকিমূল্যে সার পাওয়া যায় না, তখন অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা ব্যবসায়ীদরে কাছে ঠিকই সার পাওয়া যায়।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, ডিলারদের কাছে সার কিনতে গেলে চাহিদা মতো সার পাওয়া যায় না। প্রতি বিঘা জমির জন্য মাত্র ১০ কেজি সার দেয়া হচ্ছে। এই অল্প পরিমাণ সার দিয়ে আবাদ করা সম্ভব হয় না। আবার খুচরা দোকান থেকে সার পাওয়া গেলেও তারা দাম নিচ্ছেন তিন-চারশ’ টাকা বেশি। কৃষকেরা আরো বলেন, প্রয়োজনের সময় সারের সঙ্কট দেখা দিলেও অন্যান্য সময় সারের কোনো সঙ্কট নেই। প্রতিবছরই শুধু এই ভরা মৌসুমে সারের সঙ্কট দেখা দেয়। এবার এই সঙ্কট আরো তীব্রতর হয়েছে।
কৃষক হাসমত আলি বলেন, ভুট্টা চাষের শুরুতে অনেক বেশি পরিমাণে সারের প্রয়োজন হয়। না হলে ভালো ফলন পাওয়া যায় না। প্রশ্ন হলো- যেখানে ডিলাররা সার দিতে পারছেন না, সেখানে খুচরা ব্যবসায়ীরা কোথা থেকে দিতে পারে?
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, সারের সঙ্কট নেই। অন্যস্থান থেকে সার এনে আমরা স্থানীয়দের চাহিদা পূরণ করি। এ কারণে সারের দাম কিছুটা বাড়তি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিসিআইসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী বলেন, রবি মৌসুমে ডিএপি এবং এমওপি সারের চাহিদা বাড়ে। চাহিদা মতো সার না পাওয়ায় সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। এ বছরে যে পরিমাণ সারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে, তার তুলনায় আমরা সার পেয়েছি ৫৫-৬০ শতাংশ। ফলে একটি ফঙ্কট শুরু থেকেই রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, সরকার কৃষকদের জন্য ভর্তুকিমূল্যে সার দিচ্ছে। সার ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো কারসাজি বা সিন্ডিকেট থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গায় ভরা মৌসুমেও সার সঙ্কট : কৃষকদের মাথায় হাত
চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বত্র এই ভরা মৌসুমেও কৃত্তিম সার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কোনোভাবেই স্বাভাবিক হচ্ছে না নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের কাছে মিলছে না...



