সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে রাস্তাবিহীন অপরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণ করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এলজিইডি কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। কালভার্টের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার এ ঘটনা ঘটেছে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নে।
জানা যায়, উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের রগারপাড় (বড় ময়দান) খালে একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ করাচ্ছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ। দোয়ারাবাজার এলজিইডি কার্যালয় হতে দেয়া স্টিমিট অনুযায়ী নরসিংপুর ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল হতে ৮ লাখ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দে কাজটি করাচ্ছেন তিনি। যদিও একই জায়গায় প্রায় ১০-১৫ বছর আগে তৎকালীন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরেকটি পরিকল্পনাবিহীন কালভার্ট নির্মাণ করার কয়েক দিন পরই ধসে পড়ে যায় খালে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংপুর ইউনিয়নের রগারপাড় (বড়ময়দান) খালের একপাশে রাস্তা থাকলেও আরেক পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে বড় খাল। ৮ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে খালের মধ্যবর্তী স্থানে একটু উঁচু জায়গার সাথে সংযোগে নির্মিত হচ্ছে কালভার্ট। কিন্তু কাজ চলমান কালভার্ট পরিদর্শন করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। বাকি ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অপরিকল্পিতভাবে কালভার্ট নির্মাণ করছে ইউপি চেয়ারম্যান।
স্থানীয় একাধিক ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজ ইচ্ছেমতো পরিকল্পনাবিহীন কালভার্টের কাজ করাচ্ছেন। এই কালভার্ট এলাকার মানুষের কোনো কাজে আসবে না। শুকনো মৌসুমে কালভার্ট কোনোরকমে ব্যবহার করা গেলেও বর্ষায় সাঁতার কেটে কালভার্টে উঠা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
অন্য দিকে, এই কালভার্ট নির্মাণের জটিলতা নিয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকাসহ স্থানীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় (দোয়ারাবাজারে কালভার্ট নির্মাণে জটিলতা দায় নিচ্ছে না কোনো সংস্থা) শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনুর বিষয়টি জানা নেই, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন এমন বক্তব্য প্রদান করা হলেও সংবাদ প্রকাশের ২৫ দিনেও সন্তোষজনক কোনো তৎপরতা পাওয়া যায়নি উপজেলা প্রশাসনের।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদকে কল দিয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি প্রকৌশলী জানেন বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ জানান, তিনি কালভার্টের কাজ তদারকিতে আসার কথা ছিল, কিন্তু সময় আর সুযোগে সম্ভব হয়নি। স্টিমিটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান এখানে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মেহেদি স্টিমিট প্রদান করেছেন বলে তিনি জানান।