ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কে গৌরীপুর উপজেলার বেলতলী এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে লাল নিশান (বিপজ্জনক সঙ্কেত দেখিয়ে) উড়িয়ে চাঁদাবাজিকালে যৌথবাহিনীর অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় গতকাল মামলা হয়েছে। এ মামলা করেছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের জঙ্গলবাড়ি এলাকার মো: আব্দুল কদ্দুছের ছেলে আবুল কাসেম। মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির্জা মাযহারুল আনোয়ার। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরকেও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কে বালুরগাড়ি, চিনির ট্রাক, পাথর বোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহনে শ্যামগঞ্জ থেকে শম্ভগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে একটি চক্র। দুর্গাপুরের ট্রাকচালক সাইফুল ইসলাম জানান, রাস্তায় লাল নিশান উড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, বিপদসঙ্কেত বুঝে দাঁড়ালেও ওরা চাঁদা দাবি করে। না দিলে চালক আর হেলপারদের নামিয়ে মারধর করা হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ সড়কের বেলতলী বাজারের পশ্চিমে অটো রাইস মিলের সামনে বৃহস্পতিবার রাত ৭টার দিকে কয়লা বোঝাই ট্রাকের চালক মো: রফিকুল ইসলামের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ খবর পেয়ে কয়লা ব্যবসায়ী আবুল কাসেম ঘটনাস্থলে আসেন এবং বিষয়টি শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ও গৌরীপুর সেনা ক্যাম্পকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে এ সময় ৩ জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন বেলতলী গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো: আব্দুল জলিল, মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে মো: মিজানুর রহমান (৪৫), মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো: ফজলুর রহমান। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বেলতলী গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে হাবিুর রহমান সজল (বুলেট), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে কামরুল মিয়া, আজিজুর রহমানের ছেলে পিয়াস উদ্দিন, রহিমের ছেলে নাঈম মিয়া, মোতালেবের ছেলে হৃদয় মিয়া ও কাদের, রাকিব মিয়া ও আকাশ মিয়া।