মেডিক্যাল অফিসারের পদটিও স্থায়ী হয়নি তিনি হয়ে গেছেন সহকারী অধ্যাপক, আবার কিছুদিন পর সহযোগী অধ্যাপক। আরো কিছুদিন পর অধ্যাপক পদটিও বাগিয়ে নিতেও সমস্যা হয়নি। এই জালিয়াতির তথ্য এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে গেলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটির কাজও এক সময় মাঝপথে থেমে যায়। তিনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেন সেখানেও দুর্নীতির প্রমাণ মুছে দিয়েছেন ফাইল গায়েব করে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিজি হাসপাতাল) সাবেক কোষাধ্যক্ষ ডা: মো: আতিকুর রহমান। গত ১৭ বছরে এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে প্রায় সব ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন তিনি। এসব অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো- জালিয়াতির মাধ্যমে পদোন্নতি গ্রহণ, মেডিক্যাল অফিসার পদের চাকরি নিয়মবহিভূর্তভাবে স্থায়ীকরণ, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়াই সহকারী অধ্যাপকের পদ গ্রহণ এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপকের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পূর্ত কাজ থেকে কমিশন গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাপস্যুল লিফট স্থাপন কাজ থেকে জোরপূর্বক অর্থ গ্রহণ ও বেআইনি পদোন্নতি গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি তদন্ত কমিমনও গঠন করে। কিন্তু ক্ষমতা দেখিয়ে এবং অর্থ খরচ করে সেই তদন্ত কাজও থামিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্য দিকে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রোগী নিজ ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ইউজিসির তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ তো দূরের কথা ইউজিসি সেই তদন্তটি শেষ করতেও পারেনি। অভিযোগ রয়েছে এখানেও তার ক্ষমতা এবং অর্থ কাজ করেছে।
ইউজিসির সেই তদন্তে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সদস্যকে আহ্বায়ক করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের একজন সদস্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষ) অধ্যাপক ডা: এ কে এম মোশাররফ হোসেন এবং ইউজিসির সচিব। ওই তদন্ত কমিটির সচিব করা হয়েছিল ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপপরিচালক মো: গোলাম দস্তগীর। ইউজিসির যুগ্ম সচিব জাফর আহম্মদ জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটির কথা জানা যায়। কিন্তু জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৬ মে গঠিত এই তদন্তটি মাঝপথেই থেমে যায়, আলোরমুখ দেখেনি। ওই তদন্ত কমিটির সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা: এ কে এম মোশাররফ হোসেনর কাছে ওই তদন্তের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, ‘ওই তদন্ত কমিটির প্রথম সভায় আমি ছিলাম। কি করতে হবে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক কথা-বার্তা হয়েছিল। পরে আরেকটি সভার ডেট দেয়া হয়েছিল; কিন্তু সেই সভাটি আর হয়নি।’ অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন জানান, ‘এরপর কি হয়েছে আমি বলতে পারব না। আমাকে আর ডাকা হয়নি।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএসএমএমইউর সাবেক কোষাধ্যক্ষ অভিযুক্ত অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন এই প্রতিবেদক। বিএসএমএমইউয়ে তার বিভাগের গিয়ে তাকে কখনো পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটি বাজে কিন্তু তিনি একবারও ধরেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগায়োগ করেও ব্যর্থ হয়ে তাকে মেসেজ দেয়া হয়। তিনি মেসেজের জবাব না দিয়ে অন্য পত্রিকার একজন সাংবাদিকের সাথে যোগাযোগ করে অনুরোধ করেন এ সংক্রান্ত কিছু প্রকাশ না করার জন্য। কিন্তু তিনি নয়া দিগন্তের এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেননি।
অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৯ সালের ১ জুলাই তৎকালীন রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আবদুল গফুর স্বাক্ষরিত এক পত্রে ৬ শর্তে দুই বছরের চুক্তিতে ডা: আতিকুর রহমান সাময়িকভাবে কার্ডিওলজি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগপত্রে বলা হয়, দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তার নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যাবে। আইন অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক কোনো চিকিৎসক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত হতে পারেন না। কিন্তু নিয়মভঙ্গ করে ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে তিনি নিয়মিত চিকিৎসক হয়ে যান। পরে ২০০৮ সালে তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে নিয়োগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী একজন সহকারী অধ্যাপক অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে নিয়োগ পেতে পারেন না। সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর সহকারী অধ্যাপকের পদে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে নিয়োগ পেতে পারেন। মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ ধরনের অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়নি। ইউজিসির তদন্তটিও শেষ করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
জালিয়াতি করে অধ্যাপক তিনি : ইউজিসির তদন্ত কমিটিও মাঝপথে বন্ধ
আছে ফাইল গায়েবের অভিযোগও
মেডিক্যাল অফিসারের পদটিও স্থায়ী হয়নি তিনি হয়ে গেছেন সহকারী অধ্যাপক, আবার কিছুদিন পর সহযোগী অধ্যাপক। আরো কিছুদিন পর অধ্যাপক পদটিও বাগিয়ে নিতেও সমস্যা হয়নি। এই...



