বাংলাদেশের উন্মুক্ত সীমান্তে ভারত যেকোনো মূল্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বিএসএফকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে একটি সংবাদ কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার গত অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় জলপাইগুড়িতে ১৯ কিলোমিটার সীমান্ত উন্মুক্ত। ছয়টি গ্রাম কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে। ওই গ্রামগুলোকে বেড়ার ভেতরে আনতে অন্তত ৩০ কিলোমিটার জুড়ে কাঁটাতার বসাতে হবে। বিজিবির বাধার মুখেও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ যাতে থমকে না যায় সেজন্য বিএসএফকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে গত শুক্রবার জলপাইগুড়ির জেলা শাসক শমা পারভীন জেলা প্রশাসন এবং বিডিওদের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠকে সীমান্ত এলাকার ভারতীয় জমি মালিকদের সাথে জমিজট কাটানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ির বেরুবাড়ি সীমান্ত এলাকায় যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার প্রয়োজন পড়বে সেখানে এককাঠা জমির দর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা উঠেছে। প্রয়োজনে ওই জমির দর তিন থেকে পাঁচগুণ বেশি জমির মালিকদের দিয়ে হলেও ওই জমি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় ছয়টি গ্রামকে কাঁটাতারের ভেতরে এনে সীমান্ত চৌকি বসিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। তবে প্রতিবেদনে সীমান্তের যে ছয়টি গ্রামের কথা বলা হয়েছে তা কোন কোন গ্রাম তা উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে দহগ্রাম আঙ্গরপোতা সীমান্তের সরকার পাড়ায় ডিএমপি ৮/৪১ শূন্য রেখায় বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় চার ফুট উচ্চতার লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ইতোমধ্যে শেষ করেছে। পরে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ কাজ বন্ধ রেখে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। কিন্তু এরপরও বিএসএফের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ যাতে কাঁটাতারের বেড়া দিতে পারে সে জন্য কোচবিহারের তল্লিগুড়িতে গোপালপুর রেঞ্জ ক্যাম্পাসে বিএসএফ সদস্যদের অস্ত্রের মহড়া দেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রংপুর ৫১ বিজিবির সহকারী (এডি) পরিচালক আমীর খসরু বলেন, ১৫০ গজের বাইরে তারা যদি তারকাঁটার বেড়া দেয় আমাদের আপত্তি নেই। তাদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে এটা করতে হবে। তবে অন্যকোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে আলোচনার পর দু’দেশের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে। সীমান্তে সর্বক্ষণিক বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। আমরা সবকিছু মনিটরিং করছি।