দেড় দশক পর রাজশাহীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শনিবার। নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে রাজশাহী জেলা ও মহানগর জামায়াতের আয়োজনে যৌথভাবে এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে মাদরাসা ময়দান পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরী আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ড. মাওলানা কেরামত আলী, সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমনসহ অন্য নেতারা।

এতে লক্ষাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেবেন বলে আশা করছেন দলটির উর্ধ্বতন নেতারা। সকাল ৯টার দিকে কর্মী সম্মেলন শুরু হবে। এ সময় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

কর্মী সম্মেলন শেষে দুপুর ২টার দিকে নগরীর নাইস কমিউনিটি সেন্টারে দলটির মহিলা কর্মী সম্মেলন ও পরে চিকিৎসক সমাবেশ হবে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এবং বাদ মাগরিব রাজশাহী চেম্বার ভবনে ব্যবসায়ীদের নিয়ে সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত দেড় দশকে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে একটি সভা করার অনুমতিও দেয়নি। কিন্তু দীর্ঘ এতো বছর পর আমরা এমন সম্মেলন আয়োজন করতে পেরেছি। এতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এই সম্মেলনে জেলা ও মহানগর শাখা থেকে লক্ষাধিক নেতা-কর্মী আসবেন। আমিরে জামায়াত তাদের দিক-নির্দেশনা দেবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০১০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে জামায়াতের সর্বশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আর প্রকাশ্যে বড় কোনো কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি।’

জামায়াতের রাজশাহী মহানগরী সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও রাজশাহী মহানগরী আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী।’

ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘এটা শুধু রাজশাহীর কর্মী সম্মেলন। অন্য জেলা থেকে কোনো গাড়ি ঢুকবে না। অন্য জেলায় আলাদাভাবে প্রোগ্রাম হবে। মাদরাসা ময়দানে আমাদের রাজশাহী মহানগরী ও জেলার সব উপজেলার কর্মীরা অংশ নেবেন। লক্ষাধিক কর্মীর সমাগম হবে এই সম্মেলনে। কর্মী সম্মেলন সফল করতে এতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।’

কর্মী সম্মেলন ঘিরে নগরী ও জেলার পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টাঙ্গানো হয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন। করা হয়েছে পোস্টারিং। এছাড়া নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শুক্রবারও আলাদা আলাদা মিছিল ও সভা করেছেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। দেড়যুগ পর প্রকাশ্যে কর্মী সম্মেলন আয়োজন করায় সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা উচ্ছ্বসিত।