‘খেজুর গুড় যশোরবাসীর নিজস্ব শিল্প। যশোর জেলা খেজুর গুড় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। মেলায় আগত গাছিরা তাদের উৎপাদিত খাঁটি গুড় ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার জায়গা পেয়েছেন। আবার ক্রেতারাও খাঁটি গুড় কিনতে পারছেন। তিনি বলেন, সারা দেশে যশোরের খেজুর গুড়ের চাহিদা রয়েছে। তবে নির্ভেজাল খেজুর গুড়ের গ্যারান্টি দিতে হবে। বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন নতুন গাছি তৈরি করতে হবে।’
গতকাল শুক্রবার যশোরের চৌগাছার তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি এ কথা বলেন।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকার বলেন, যশোর থেকে কৃষি পণ্যবাহী বিশেষ ট্রেনে দেশের রাজধানীতে যশোরের খেজুর গুড় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এই জেলার মানুষ খুব সহজেই তাদের উৎপাদিত গুড়সহ কৃষিজাত পণ্য ঢাকায় পৌঁছাতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক রেজাউল হক পিপিএম, যশোর জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম, যশোরের পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দীন আহম্মেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা।
তিন দিনব্যাপী মেলায় শ্রেষ্ঠ তিনজন গাছিকে পুরস্কার দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শ্রেষ্ঠ গাছির প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন স্বরুপদাহ ইউনিয়নের সাঞ্চডাঙ্গা গ্রামের গাছি আব্দুর রাজ্জাক। উপজেলা প্রশাসন তাকে ১০ হাজার টাকার চেক প্রদান করে। দ্বিতীয় হন পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামের আবুল গাজী। তিনি পেয়েছেন সাত হাজার টাকার চেক। তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছেন সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের গাছি মিজানুর রহমান। এ ছাড়া ১১টি ইউনিয়নের শ্রেষ্ঠ ১১ জন গাছিকেও পুরস্কার দেয়া হয়েছে।



