চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক শৌচাগার (ওয়াশ ব্লক) নির্মাণে ঠিকাদার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলায় ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক শৌচারগার নির্মাণ কাজ শুরু করলেও মাসের পর মাস সেগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয়গুলোর প্রায় তিন হাজার শিশু শিক্ষার্থীর হাত ধোয়া, শৌচাগার ব্যবহার ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারে ভোগান্তিতে পড়ছে। শৌচাগার নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
মিরসরাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক শৌচাগার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এক তলাবিশিষ্ট শৌচাগারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছ ১১ লাখ টাকা ও দোতলাবিশিষ্ট শৌচাগারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা।
বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, কচুয়া মোসলেমিয়া, নিশ্চিন্তা, মসজিদিয়া ভূঁইয়া পাড়া, পশ্চিম অলিনগর মজুমদারসহ, উত্তর ধুম দৌলতবিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। লতিফ কনস্ট্রাকশন ছয়টি, খান কনস্ট্রাকশন চারটি, ঋদি কনস্ট্রাকশন দু’টি, লাকী এন্টারপ্রাইজ দু’টি শৌচাগার নির্মাণ কাজ পেয়েছে। তিন ঠিকাদারের নাম জানা যায়নি।
সরেজমিন মসজিদিয়া ভূঁইয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শৌচাগার নির্মাণের জন্য ছাদ ঢালাইয়ের এক বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারের আর কোনো খোঁজখবর নেই। কাজের জন্য নিয়ে আসা আট বস্তা সিমেন্ট পাথর হয়ে গেছে। ঢালাইয়ে ব্যবহারকৃত পেরাগ লাগানো তক্তা চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় শিশু শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা জানান, প্রধান শিক্ষক নাছির উদ্দিন। তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ও সাতজন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। দু’টি শৌচাগার থাকলেও একটি পরিত্যক্ত। নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। একাধিকবার অভিযোগ জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না। মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগম জানান, বিদ্যালয়ে সাতজন মহিলা শিক্ষক ও ১১৬ জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু ব্যবহার উপযোগী কোনো শৌচাগার না থাকায় তারা নানা সমস্যায় পড়ছেন।
কাজ পাওয়া লতিফ কনস্ট্রাকশনের নিষান জানান, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর তাদের পাওনা বিল আটকে যাওয়ায় কাজে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আগামী ঈদের আগেই সবগুলো শৌচাগারের কাজ শেষ হবে।
ঠিকাদার খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মোসলিম উদ্দিন জানান, চট্টগ্রামে একটি প্যাকেজে তার ২৫টি ওয়াশ ব্লকের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে প্যাকেজের সবগুলো কাজ বুঝিয়ে দেবেন।
মিরসরাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের গাফিলতি ও তদারকির অভাবে প্রকল্পের মেয়ার শেষ হলেও নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না। কয়েকটি বিদ্যালয়ে শৌচাগারের নির্মাণ কাজ এক বছরের বেশি আবার কোনো কোনোটি বন্ধ রয়েছে প্রায় সাত-আট মাস ধরে।
মিরসরাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কে এম সাঈদ মাহমুদ জানান, বিদ্যালয়ের কাজগুলো শেষ করতে তার দফতর থেকে কোনো গাফিলতি করা হচ্ছে না। ঠিকাদারদের কাজ শেষ করতে বারবার তাগাদা দেয়া হচ্ছে। উত্তর ধুম দৌলত বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। অন্য বিদ্যালয়ের কাজগুলোও দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে ঠিকাদারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।
মিরসরাইয়ে ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক শৌচাগার নির্মাণে ধীরগতি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক শৌচাগার (ওয়াশ ব্লক) নির্মাণে ঠিকাদার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলায় ১৭টি প্রাথমিক...



