জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের অসহায় বৃদ্ধ বাবা দুলাল মন্ডল। তিনি উপজেলার সদর দেওয়ানগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার তিন ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) এই অসহায় পরিবারটির সাথে কথা হয় নয়া দিগন্তের প্রতিবেদকের সাথে। সেখানে উঠে আসে দুলাল মন্ডলের জীবনের করুন বাস্তবতা। সহায়তা চেয়েছেন মানবিক বিত্তশালীদের।

দুলাল মন্ডলের তিন সন্তান হলেন রিপন মন্ডল, শিপন মন্ডল ও রোকন মন্ডল। দুলালের সাংসারিক অবস্থা একবারে ভালো না। নিজে এবং তার স্ত্রীর শারীরিকভাবে দুর্বল। নানা রোগে আক্রান্ত তারা। একেতো অভাবী সংসার, তার উপর তিন প্রতিবন্ধী ছেলের বোঝা টানা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধী ছেলেরা পড়াশোনা করেন দেওয়ানগঞ্জ বিশেষ শিক্ষা (প্রতিবন্ধী) বিদ্যালয়ে।

ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, ‘দুলাল মন্ডলের ৩ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে আমাদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। সরকারের সুরক্ষা আইনে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, নিরাপত্তা, পুষ্টিকর খাদ্য, বিনোদনসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে সমাজের মূলধারায় ফিরে আনা উচিত। কিন্তু এসবের অধিকাংশই পাচ্ছে না তারা।’

বৃদ্ধ দুলাল মন্ডল নয়া দিগন্তকে জানান, ‘আমার ও আমার স্ত্রীর অনেক বয়স হয়েছে। শারীরিক সমস্যাতো আছেই, তার উপর তিন প্রতিবন্ধী ছেলে। সবকিছু মিলে সংসার চালানো আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।’

তিনি চোখের জল ফেলে বলেন, ‘আমি গরিব, বৃদ্ধ, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল আমার বৈধ এক একর ৪১ শতক জমির মধ্যে ৯৮ শতক জমি বেদল করে রেখেছে। স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কয়েকবার সালিশির আয়োজন করা হলেও তারা সালিশ মানছেন না। বরং আমার বিরুদ্ধে একের পর এক পাল্টা মামলা মোকদ্দমা করে হয়রানি করছে।’

দুলাল মন্ডল কান্নারত অবস্থায় বলেন, ‘আমি খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার এই বৈধ ৯৮ শতক জমির ন্যায় বিচার ও উদ্ধারের জন্য সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি। এছাড়া তিন প্রতিবন্ধী পুত্রের ভরণপোষন করা আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেজন্য সহৃদয়বান বিত্তশালী মহল ও সরকারের প্রতি আমাকে সহায়তার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’