কক্সবাজারের আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে পাসপোর্ট তৈরি করতে আসা দুই রোহিঙ্গা তরুণীকে আটক করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার পাসপোর্ট কার্যালয়ে পাসপোর্ট করতে এলে তাদেরকে পুলিশ আটক করে। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জানতে পারেন দু’জনই মিয়ানমারের নাগরিক। এর পর দু’জনকে তুলে দেয়া হয় পুলিশের হাতে। আটক দুই রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের (ক্যাম্প-৪) সি ব্লকের বাসিন্দা। এর মধ্যে একজন ১৬ বছরের কিশোরী। অপরজন কুতুপালং আশ্রয় শিবিরের রোহিঙ্গা আয়ুব খানের মেয়ে মারজানা বিবি প্রকাশ মরিয়ম।

এ সময় তাদের দুইজনের কাছে পাসপোর্টের আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া বিভিন্ন কাগজপত্র, তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, কক্সবাজার পৌরসভার জাতীয়তা সনদপত্র, কক্সবাজার পৌরসভার প্রত্যয়নপত্র, পৌর করের বিল, জমির খতিয়ান, জাতিসঙ্ঘের ইউএনএইচসিআর প্রদত্ত মিয়ানমারের নাগরিকদের দেয়া স্মার্টকার্ড উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার মডেল থানার ওসি মো: ইলিয়াস খান বলেন, দালালের মাধ্যমে এই দুই রোহিঙ্গা তরুণী বাংলাদেশী সেজে পাসপোর্ট তৈরি করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এর পেছনে কারা জড়িত, পাসপোর্ট তৈরির কাগজপত্র কারা জোগাড় করে দিলেন, তার অনুসন্ধান করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুই রোহিঙ্গা তরুণীকে গত মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শেষে দুই রোহিঙ্গা নারীকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।