বেঁধে দেয়া দরে পণ্য দেয়া না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভুটান থেকে পাথর আমদানি বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন বুড়িমারী আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু রাইয়ান আশয়ারী রছি। গত ২১ জানুয়ারি বুড়িমারী স্থলবন্দরে অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। আমদানিকারকদের এ ঘোষণা কার্যকর করা হলে বন্দরের শ্রমিকসহ কর্মজীবী প্রায় ১০ হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়তে পারে।
অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি রছি বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দরের চেয়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ভুটান থেকে স্টোন বোল্ডার তোর্শা ১৫ ডলারে আমদানি করা হচ্ছে। অথচ আমরা একই পণ্য ভুটান থেকে প্রতি টন ১৬ ডলারে আমদানি করছি। বন্দরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যে বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় তা আমদানিকারকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। ব্যাংকিং খাতে সুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে ব্যয় বাড়ার সাথে সাথে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যদি রফতানিকারকদের প্রদত্ত রেট অনুযায়ী স্টোনবোল্ডার আমদানি করা হয় তাহলে আমদানিকারকরা বর্তমান বাজার অনুযায়ী লোকসানের সম্মুখীন হবে। আমাদের দাবি, ভুটান থেকে স্টোনবোল্ডার তোর্শা ১৫ ডলার, সামসি ১৪ ডলার এবং ভারত থেকে স্টোনবোল্ডার ১০ ডলারে আমদানি করা হোক।
তিনি বলেন- ভুটান থেকে বুড়িমারী বন্দরের চেয়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেশি। এরপরও আমদানিকারকরা ওই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করছেন। কারণ সেখানে ভুটানি পণ্য ভুটানি ট্রাকেই রফতানি করা হচ্ছে। এতে ওই বন্দর দিয়ে যারা আমদানি করছেন তাদের আমদানি ব্যয় কম হচ্ছে। অন্য দিকে পণ্য আমদানিতে ভারতের সাথে ভুটানের একটি স্লট বুকিং রয়েছে। এ কারণে ভুটানি রফতানিকারকরা বুড়িমারী স্থলবন্দরে সরাসরি কোনো পণ্য দিচ্ছে না। ট্রাক বোঝাই এসব পণ্য বন্দরের ওপারে ভারতের চাংড়াবান্ধায় আনলোড করা হচ্ছে।
ভুটানি পণ্য ভুটানের ট্রাকে পাঠানোর জন্য বুড়িমারী আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন গত ৪ জানুয়ারি ভুটানের এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠির ওই কপি ঢাকায় ভুটানি দূতাবাসেও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো কোনো রেসপন্স পাইনি। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সাময়িক আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।



