মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর সুপার মার্কেটের রাস্তার ফুটপাথ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ পোলট্রির দোকান। আর এসব দোকান পৌর সুপার মার্কেট ও রাস্তার বিপরীত দিকের মার্কেটের ব্যবসায়ী, পথচারী ও ক্রেতা সাধারণের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। হাঁস-মোরগসহ পশুপাখির বিষ্ঠা ও আবর্জনার দুর্গন্ধে বিনষ্ট হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা তিন মাস ধরে পৌর প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরে আবেদন নিবেদন করেও পায়নি কোনো প্রতিকার।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রের আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পৌর সুপার মার্কেটের দোকানঘরের পজিশন মানি ছাড়াও ব্যবসায়ীরা প্রতি মাসে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌরসভাকে ভাড়া পরিশোধ করছেন। কিন্তু মার্কেটের প্রবেশ রাস্তার ফুটপাথ দখল করে হাঁস-মোরগ ও পশু-পাখির খোলা দোকান দেয়ায় দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা মার্কেটমুখী হন না। এতে লোকসানে পড়েছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

পৌর সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন, সিলেট ফ্যাশন, মা-বাবা ট্রেডার্স, সিলেট পেইন্ট, পাল মিষ্টিঘর, ভাইভাই ট্রেডার্স, সুপারি ঘর, ভোজন বিলাশ, মানিক জুয়েলার্সসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী স্বত্বাধিকারীরা জানান, অনেক ব্যবসায়ী ১৫ থেকে ৩২ লাখ টাকা জামানত দিয়ে ও প্রতি মাসে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে পৌর সুপার মার্কেটের দোকানঘর নিয়েছেন। মার্কেটের প্রবেশপথই যদি মারাত্মক দুর্গন্ধময় থাকে তবে, লোকজন মার্কেটে আসবে কিভাবে? গত ১০ অক্টোবর পৌরসভার প্রশাসক ও পরবর্তীতে ১৪ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদফতরের সহকারি পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু এখনো কোনো প্রতিকার পাননি।
পরিবেশ অধিদফতর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক মাহিদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগটি তদন্তে পরিবেশ ইন্সপেক্টরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার সাদাত হোসেন ভুঁইয়া জানান, পৌরপ্রশাসক ছুটিতে রয়েছেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে যোগদান করবেন। এরপর সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।