বরগুনার তালতলীতে জোরপূর্বক জমি দখলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নয়া দিগন্তের সংবাদদাতা ইউসুফ আলীসহ তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার আঙ্গারপাড়া এলাকায় জমি দখলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া এলাকায় স্থানীয় আবদুস সত্তার ও তার সহযোগীরা প্রতিপক্ষের জমি দখল করতে যায়। এ সময় প্রতিপক্ষ জমি দখল রক্ষায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানান। ঘটনাস্থালে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে নয়া দিগন্ত সাংবাদিকসহ অন্য সাংবাদিকরা জমি দখলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে আবদুস সত্তার ও আমির হোসেনসহ তাদের ২০ থেকে ২৫ জন সহযোগী ক্ষিপ্ত হয়ে ভিডিও ধারণে বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সামনেই সাংবাদিক ইউসুফ আলীকে পিটিয়ে জখম কর করে আহত ওই সাংবাদিকের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে সাথে থাকা নগদ প্রায় ৫ হাজার টাকা ও একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা (ইওএস ৯০ ডি) লেন্সসহ ছিনিয়ে নেয় তারা।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এছাড়াও মারামারির ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিক মল্লিক জামাল ও আবুল হাসানকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা।
সাংবাদিক আবুল হাসান বলেন, আমরা জমি দখলের খবর পেয়ে পুলিশের সাথে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে জমি দখলের ভিডিও করলে পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপরে হামলা করে। মারধরের একপর্যায়ে সাথে থাকা মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশের সামনে এভাবে আমাদের ওপরে হামলা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়ায়। আমরা এই হামলার বিচার চাই।
তালতলী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হাইরাজ মাঝি বলেন, এ ঘটনার তীব্র নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানাই। পুলিশের সামনে সাংবাদিকের ওপরে হামলা করার সাহস হয় কিভাবে। দ্রুত ওই হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
তালতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের সামনে সাংবাদিকের ওপরে হামলার ঘটনা খুব দুঃখজনক। দ্রুত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
পুলিশ উপ-রিদর্শক সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, জমিজমা বিষয়ে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি দুই পক্ষের প্রায় দুই শতাধিক লোক। একটি উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও করলে তাদের ওপরে হামলা করা হয়।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল বলেন, পুলিশ থেকে একটু দূরে রাস্তায় ওই সাংবাদিকদের ওপরে হামলা করা হয়। এ সময় অন্য সাংবাদিকদের সেইভ করা হয়েছে। সাংবাদিকের গাড়ি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



