বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ব্রহ্মগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের লোহার পুলটি দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। শুধু শিশু শিক্ষার্থী নয়, ওপারে অবস্থিত মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে মুসল্লিদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রতিদিন ওই পুল দিয়ে ছয় গ্রামের কয়েক শ’ মানুষ যাতায়াত করেন। পুলটি দীর্ঘ দিন ধরে মেরামত বা সংস্কার না করায় এমন করুণ দশা হয়েছে। পুলের রড-সিমেন্টের ঢালাই পাটাতন ভেঙে মরা চিত্রা নদীতে পড়ে গেছে। ফলে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন।
সুরশাইল গ্রামের অভিভাবক আসমা বেগম, মিনারা বেগম, শারমিন আক্তার সুমি ও কুরমনি গ্রামের কাবেরী বিশ্বাস জানান, তাদের শিশু ছেলে-মেয়েরা ব্রহ্মগাতী সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। ধারে কাছে স্কুলে যাতায়াতে পারাপারের জন্য একমাত্র ওই পুলটিই ভরসা। তাও দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙা। তাই তারা ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভোগেন।
সুরশাইল গ্রামের গাউস গাজী, মইয়ার ফরাজী ও আমিনুল গাজীসহ অনেকে জানান, ব্রহ্মগাতী মসজিদে সুরশাইল ও কুরমনিসহ কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ গ্রামের মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। সুরশাইল ও কুরমনি গ্রামের মুসল্লিদের পাঁচ ওয়াক্তই এই ভাঙা পুল দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এ ছাড়াও ওই পুল দিয়ে আশপাশের ছয় গ্রামের কয়েক শ’ মানুষ যাতায়াত করেন।
ব্রহ্মগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলেন্দু গোলদার জানান, এ ব্যাপারে তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো কথা বলেননি।
চিতলমারী উপজেলা প্রকৌশলী মো: সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।



