বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ (বিএসভিইআর)-এর আয়োজনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৩১তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে ‘প্রাণীর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ প্রতিপাদ্য এবারের সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ওই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঘানায় নিযুক্ত জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সিনিয়র অ্যানিমেল প্রোডাকশন অ্যান্ড হেলথ অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামছুদ্দিন। তিনি বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে উষ্ণতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনে খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রাণিসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘাসের গুণগতমান কমছে, পশুর উৎপাদনশীলতা কমছে। পাশাপাশি দূষণ ও অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে খাদ্য নিরাপত্তা নষ্ট হচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষ খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা বাড়ায় ২০৫০ সালে প্রতি বছর ১০ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই কোভিড-১৯, নিপাহ, লাম্ফি স্কিন ডিজিজসহ নানা উদীয়মান রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এগুলো থেকে উত্তরণের জন্য পরিবেশবান্ধব কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ খাদ্য নীতি বাস্তবায়ন, জলবায়ু অভিযোজনসহ কৃষকদের জন্য ভর্তুকি ও সরকারি সহায়তা জরুরি। দুই দিনব্যাপী ওই সম্মেলনে বাকৃবি ছাড়াও দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ছয়টি প্রতিষ্ঠানসহ দেশী-বিদেশী মোট ৫ শ’র অধিক গবেষক, ভেটেরিনারিয়ান ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের প্রথম দিন সেমিনার, প্লেনারি সেশন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ রোববার ১২টি টেকনিক্যাল সেশনে গবেষণামূলক ৯০টি মৌখিক এবং ১৬২টি পোস্টার উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্য থেকে সেরা পোস্টার উপস্থাপনায় ছয়টি এবং সেরা মৌখিক উপস্থাপনায় ১২টি পুরস্কার প্রদান করা হবে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভিসি ও বিএসভিইআরের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: আবু সুফিয়ান, ফ্লেমিং ফান্ড কান্ট্রি গ্রান্ট টু বাংলাদেশের টিম লিডার অধ্যাপক ড. শাহ মনির হোসাইন এবং ইন্টার অ্যাগ্রো বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খশরুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশের বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রতিটি পেশার দায়িত্বও বেড়েছে। গুণগত মানের দিকে নজর রেখে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিজ্ঞানের যে গবেষণালব্ধ জ্ঞান সরাসরি কৃষকের মাঠে প্রয়োগ করা যায়, সেগুলো যেন কেবল বইয়ের পাতায় বন্দী না থাকুক। যত দ্রুত মাঠপর্যায়ে খামারিদের কাছে পৌঁছে যাবে, তবেই গবেষণার সাফল্য অর্জিত হবে। আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষার প্রচলিত কাঠামো ও কারিকুলাম সময়ের সাথে পরিবর্তন করা প্রয়োজন, যেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা যায়। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।



