যশোরের চৌগাছায় পেঁয়াজ চাষিদের উঠছে না উৎপাদন খরচ। দাম কম তাই বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে তাদের। বেশ কয়েক মাস ধরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল অনেক বেশি। এ কারণে এ উপজেলার প্রান্তিক চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর বাজারে আশঙ্কাজনকভাবে দর পতন হয়েছে। এতে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হচ্ছে চাষিদের।
চাষিরা জানান, সারা বছর পেঁয়াজের দাম ছিল। যখন চাষিরা পেঁয়াজ চাষে গুরুত্ব দিতে শুরু করলেন, ঠিক তখনই পেঁয়াজের বাজার পড়ে গেল। এমন হলে আগামী বছর আর কেউ পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হবেন না।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। যা টার্গেটের চেয়ে দ্বিগুণ। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অল্প কিছুদিন আগেও এক কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ১৫০ টাকা। উপজেলার প্রত্যেকটা বাজারে খুচরা পর্যায়ে ৩০/৩৫ কেজি, পাইকারি বাজারে ২৫/৩০ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে।
চৌগাছা বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, পাইকারি ও খুচরা কেনাবেচাতে ৫ থেকে ১০ টাকার পার্থক্য থাকে। যদিও পাইকারি ও খুচরা বাজারে এ পার্থক্য ১৫/২০ টাকা।
উপজেলার অধিকাংশ চাষি বলছেন, পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যয়, বাজারমূল্যের অস্থিরতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যই এই লোকসানের প্রধান কারণ। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক এবং শ্রমিক খরচ মিলে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে যা খরচ হয়েছে, তার অর্ধেক দামেও পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পারায় লোসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সদর ইউনিয়নের বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের চাষি আবদার আলী ও আব্দুস সামাদ বলেন, চলতি বছরে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। বীজের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। লোকসানের হিসাব দিতে গিয়ে তারা বলেন, মজুরি, সার ও কীটনাশক, বীজ কেনাসহ বিঘাপ্রতি মোট ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। একবিঘা জমিতে উৎপাদন হবে ৪০/৪৫ মণ পেঁয়াজ। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪৮/৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই বিঘা জমিতে লোকসান হবে ৬০/৭০ হাজার টাকা।
চৌগাছা বড় বাজেরের আড়ৎদার আজিজুর রহমান বলেন, সরকারের উচিত স্থানীয়ভাবে কোল্ড স্টোর স্থাপন করে মৌসুমে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। তাহলে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বে না।
চৌগাছা বড় বাজেরের পাইকারি ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান বলেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মোকামেও পেঁয়াজের চাহিদা কমে দাম কমে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসাব্বির হুসাইন বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারলে ভালো লাভ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।



