লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় তিন সন্তানের জননী রেনুকা বেগমকে (৪৫) ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে তাকে কেউ হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করছেন রেনুকার বড় ছেলে হাসানুজ্জামান সাগর (২২)।
থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরকামাত এলাকার বাড়িতে গতকাল বুধবার দুপুরে খেতে আসেন রেনুকার ছেলে সাগর। এ সময় ঘরের দরজায় তালা লাগানো ও বৈদ্যুতিক লাইট জ্বলা এবং গৃহপালিত ছাগলের চিৎকার শুনেন তিনি। মা-বাবা তামাক ক্ষেতে কাজ করতে গেছেন ভেবে ডাকাডাকি না করে তিনি ছাগলকে ঘাস খেতে দেন।
কিছু সময় পরে সন্দেহ হলে বাইরে থেকে বন্ধ ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁর মাকে গলায় ওড়না পেঁচানো ও বালিশ চাপা দেয়া মৃত অবস্থায় দেখেন তিনি। এই সময় ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ এসে সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাটগ্রাম থানায় নিয়ে যান। এ দিন বিকেলে নিহত রেনুকার দ্বিতীয় স্বামী জবেদুল ইসলাম পাটগ্রাম থানায় আসেন। এ সময় পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা রেনুকার সাথে দ্বিতীয় স্বামী জবেদুল ইসলামের বাগি¦তণ্ডার জেরে তাকে গলাটিপে হত্যা করতে পারে জবেদুল।
এ ব্যাপারে রেনুকার ছেলে হাসানুজ্জামান সাগর বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি কোম্পানির ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করি। গত মঙ্গলবার রাতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলাম। সৎ বাবা জাহেদুল ইসলাম বাড়িতে ছিল। গতকাল বুধবার দুপুরে খেতে এসে মাকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর উনাকে বাড়িতে পাইনি। তার মোবাইল নম্বরে কল দিয়েও বন্ধ পাই।’
পাটগ্রাম থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।