দেশের বোটানিক্যাল গার্ডেন গুলোকে ইকো পার্কের সাথে পার্থক্য করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ।
শুক্রবার (৭ ফ্রেবরুয়ারি) সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে ইন্ডিজিনিয়াস প্লান্ট ফর সাসটেইনেবল ইনভাইরনমেন্ট বিষয়ক বার্ষিক উদ্ভিদবিজ্ঞান সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজওয়ানা হাসান বলেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনগুলোতে দর্শনার্থীদের অবাধ চলাচল, পিকনিকের মতো কাজ হওয়ায় গার্ডেন গুলোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনগুলোতে গেলে পাথর্ক্য করা যায় না এটি বোটানিক্যাল গার্ডেন নাকি কোনো ইকো পার্ক । গার্ডেনগুলোকে গবেষণার জন্য সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করতে হবে। বোটানিক্যাল গার্ডেন শুধু বিনোদন নয়, প্রকৃতি সংরক্ষণের কেন্দ্রও, জনগণের মধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেনের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে এই গার্ডেনগুলোকে প্রকৃতি রিজার্ভে পরিণত করতে কাজ করছে।
তিনি আরো জানান, স্যাল ফরেস্ট পুনরুদ্ধারের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান শুরু হয়েছে এবং স্থানীয় গাছপালা রোপণের পাশাপাশি সেগুলো টিকিয়ে রাখাও জরুরি।
নগরায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান জীববৈচিত্র সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। তিনি দেশের বন বিভাগের সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণারও আহ্বান জানান।
সম্মেলনে জাবি ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, মানুষের নিজের প্রয়োজনে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে ও অপরিকল্পিত নগরের জন্য অনেক মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। জাবিতে একসময় শাল গাছের প্রাচুর্য্য ছিল, ছিল বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। কিন্তু এখন আর কোনো শাল গাছ দেখা যায় না। আমরা ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। ডেকে আনছি জীববৈচিত্রের ধ্বংস। একটি গাছ কাটলে আমাদের ১০টি গাছ লাগানোর শপথ নিতে হবে এবং সেটা দেশীয় গাছ লাগাতে হবে।
প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও তার ধারাবাহিকতা রক্ষায় নতুন আবিষ্কার এবং উদ্ভাবন বৈজ্ঞানিকদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিবেশবান্ধব টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশীয় গাছপালার ভূমিকা অপরিসীম। স্বদেশী উদ্ভিদরাজির বিলুপ্তি ঘটার অন্যতম কারণ বিদেশী আগ্রাসী বৃক্ষ। আমাদের বেশি করে দেশীয় উাদ্ভিদ রোপণ করতে হবে।



