বগুড়ার ধুনট ও সারিয়াকান্দিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সকালে ধুনট উপজেলা সদরের হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড ও শনিবার রাতে সারিয়াকান্দি উপজেলার কড়িতলা বাজারে এসব ঘটনা ঘটে।
ধুনট সংবাদদাতা জানান, রোববার সকাল সোয়া ৯টায় উপজেলা বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তৌহিদুল আলম মামুন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর পাশার নির্দেশনা অমান্য করে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আলাদাভাবে শেরপুর উপজেলা থেকে লোকজন নিয়ে এসে মিছিল করার চেষ্টা করে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর পাশার সাথে আপেল মাহমুদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহত আপেল মাহমুদ ও তার ছেলে আবির মাহমুদ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে গত শনিবার রাত ৮টার দিকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোখলেছুর রহমান হিল্টুর নেতৃত্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ রেজাউল করিম ঠাণ্ডুর লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে সাতজন আহত হন। রেজাউল করিম ঠাণ্ডু বলেন, হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন- ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পুটু (৪০), ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি স্বপ্ন মিয়া (৪০), বাচ্চু মিয়া (৪৫), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু আলম (৩৫), ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য রাসেল মিয়া (৩৫), ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আলমগীর হোসেন (৪০) এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সুজন মিয়া (৪৫)। আহতরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অপরদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোখলেছুর রহমান হিল্টু বলেন, তার লোকজন বাজারে চা পান করছিলেন। এ সময় সভাপতি রেজাউল করিম ঠাণ্ডুর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করে ছয়জনকে আহত করে। আহতরা হলেন- কামালপুর কড়িতলা গ্রামের কামাল হোসেন (৩৮), সমসের আলী মণ্ডল (৫৫), গোলাম কিবরিয়া (৩৫), আজাদ মিয়া (৩০), মাজু সরকার (৬০) এবং রৌহাদহ গ্রামের নিয়ামত সোবদুল খা। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার ওসি জামিরুল ইসলাম বলেন, আগামী বুধবার গাবতলীতে ঐতিহাসিক পোড়াদহের মেলা। এ উপলক্ষে কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন এলাকায় মাছের মেলা বসে। কড়িতলা বাজারেও মাছের মেলা বসে। এসব মেলা বসানোকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি।