বরিশালের উজিরপুরের সন্ধ্যা নদী থেকে নিখোঁজ ট্রলারচালক মাহাবুব হাওলাদারের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের ইচলাদী বাসস্ট্যান্ডে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় নিখোঁজ মাহবুবের বড় ভাই মো: জামাল হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই একজন নিরীহ মানুষ, তাকে বিনা কারণে অপহরণ করা হয়েছে। আজ ১১ দিন পর্যন্ত আমরা তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা তাকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’

এ সময় বক্তব্য দেন উজিরপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো: শহীদুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব মো: রোকুনুজ্জামান টুলু, যুগ্ম আহ্বায়ক মো: গিয়াস উদ্দিন আকন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো: শাহাবুদ্দিন আকন সাবু।

এ সময় বক্তারা বলেন, ৫ আগস্ট এর পর থেকে একদল মৌসুমি চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং, দখলবাজ সন্ত্রাসীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন প্রকার অগ্নিসংযোগ অপহরণ গুম এর মতো জঘন্য অপকর্মের জড়িত হয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে, তারই ধারাবাহিকতায় মাহবুবকে ওই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা কৌশলে ট্রলারসহ অপহরণ করে গুম করে রেখেছে। তাই পুলিশ প্রশাসনকে অপহরণের শিকার মাহবুবকে খুঁজে পাওয়ার দাবি করেন। একদল চাঁদাবাজ মিশে একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে দলের উপরে দায়ের চাপের চেষ্টা করছেন। তাদেরকে প্রতিরোধ করতে হবে, একই সাথে এ সকল মৌসুমি চাঁদাবাজার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চায়, সবাইকে দখলদার চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।

ঘাটের ইজারাদার ও নিখোঁজ মাহবুবের ভাই জামাল হোসেন বলেন, তার ভাইকে খোঁজ না দেয়া পর্যন্ত টলার বন্ধ থাকবে। এ সময় নিখোঁজ মাহবুবকে উদ্ধারে ৪৮ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দেয়া হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

উল্লেখ্য বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার মুন্ডপাশা গ্রামের ট্রলার চালক মাহাবুব হাওলাদারকে বাবুগঞ্জ-উজিরপুর সন্ধ্যা নদী থেকে ৩১ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে রাহুতকাঠী ঘাট থেকে শিকারপুর আসার পথে পথিমধ্যে ট্রলারসহ নিখোঁজ হন। তারপর গত ৬ দিনেও তার সন্ধান মিলেনি। তিনি উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মুন্ডপাশা গ্রামের সেকান্দার হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাহাবুল হাওলাদার শিকারপুর খেয়াঘাটে নিয়মিত পারাপারের জন্য ট্রলার চালাতেন। ঘটনার দিন ৩১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে আট থেকে ১০ জন তরুণ ও কিশোর যাত্রী তার ট্রলারে ওঠে। নদীর মাঝখানে পৌঁছালে হঠাৎ চিৎকার শোনা যায়। তবে আশপাশে অন্য কোনো ট্রলার না থাকায় কেউ সাহায্য করতে আসেনি।

নদীর পাড়ে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে ও পূর্বের চাঁদাবাজদেরকে চাঁদা না দেয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বাবুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও পরে নিয়মিত একটি মামলা আদায় করা হয়েছে। এদিকে উভয় থানার পুলিশ অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী সুজা ও সহকারী পুলিশ সুপার মো: ইকরামুল আহাদ। তারা পরিবারকে মানববন্ধন স্থগিত করার অনুরোধ করে নিখোঁজকে খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এ সময় প্রশাসনের আশ্বাসে মানববন্ধন প্রত্যাহার করা হয়।

উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, বাবুগঞ্জ থানা ও উজিরপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’