সামনে পয়লা ফাল্গুন, বসন্তবরণ, বিশ^ ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এসব দিবসকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে জমে উঠেছে ফুলের বিকিকিনি। জেলার বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদি ও দিঘলদিসহ আট থেকে দশটি গ্রামে এখন ফুলের সমারোহ।
সরেজমিন দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী সাবদি ও দিঘলদিসহ বিভিন্ন গ্রামে এই পেশার সাথে জড়িয়ে আছে দেড় শ’ থেকে দুই শ’ পরিবার। গ্রামগুলো এখন ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সাবদিসহ ফুলের কয়েকটি গ্রাম সাধারণ আদি ব্রহ্মপুত্র নদের কাছাকাছি অবস্থিত। রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ শহরসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন ছুটে আসেন ফুলপ্রেমীরা।
ফুলচাষিরা জানান, ব্যবসায়ীরা সাবদি ও দিঘলদিসহ আশপাশের গ্রাম থেকে বিভিন্ন ধরনের ফুল পাইকারি কিনে ঢাকার শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে ও নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্রি করেন। ২৫-৩০ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে এখানে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের দাবি, বন্দরের আট-দশটি গ্রামে প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে নানা ধরনের ফুল চাষ হচ্ছে। এবার পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
সাবদি গ্রামের ফুলচাষ করছেন ইমদাদ হোসেন ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তার। তারা প্রায় ২৫ বছর ধরে এ গ্রামে বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ করছেন। ফুল বিক্রির আয় দিয়েই তাদের সংসার চলে। নাজমা আক্তার বলেন, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকেই ফুল বেচা-বিক্রি শুরু হয়। এর মধ্যে একুশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।
চাষি আমজাদ হোসেন জানান, ডালিয়া, চেরি, জাপানি, গেন্দা, জিপাসি, ক্যালেন ডোলা, বলগেন্দা, জবা, আলমেন্দা, কাঠমালতী (কাঠবেলী), মামফুল, অর্কিড ও বেলিসহ বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষাবাদ হয় এ এলাকায়।
চাষি মো: হাসান বলেন, ১৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়। এখানকার ফুল ঢাকার শাহবাগে নিয়ে বিক্রি করা হয়।
ঢাকা থেকে ফুলের বাগান দেখতে এসেছেন মেহজাবিন। পেশায় চিকিৎসক। এই নারী বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি বন্দরে। ঢাকায় থাকি বলে এখানে তেমন আসা হয় না। ছুটির দিনে এলাম ফুলের বাগান দেখতে।
বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত বলেন, এ বছর ৮০ হেক্টর জমিতে ফুলচাষ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রাও এরকমই ছিল। তবে রোজা চলে আসায় কৃষকদের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে যে টার্গেট, তা হয়তো পূরণ হবে না। তারপরও আমরা কৃষকদের পাশে আছি।