সাভার সরকারি কলেজের অস্থায়ী ২২ জন শিক্ষকের ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ২৬ মাস বেতন ভাতা বন্ধ থাকার পর দৈনিক নয়া দিগন্তে ‘২৬ মাস শিক্ষকদের বেতন বন্ধ’ একটি রিপোর্ট আসলে প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন অধ্যক্ষ ইমরুল হাসান তাদের বেতন তিন মাস চালু করলে বর্তমান অধ্যক্ষ মো: জহিরুল ইসলাম ধীমান আসার পর এক মাস দেয়ার পর পুনরায় আবার তাদের বেতন বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
গত কয়েকদিন থেকে শিক্ষকরা তাদের বেতন দেয়ার জন্য অধ্যক্ষকে চাপ দিলে বেতন না পেয়ে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে টানা ৩টা পর্যন্ত অধ্যক্ষকে ওই ২২ জন শিক্ষক বেতন দেয়ার জন্য চেকে স্বাক্ষর না করা পর্যন্ত অধ্যক্ষের কক্ষে বসে থাকেন এবং অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরে দুপুর ৩টার পর কোনো সমাধান না হয়ে অধ্যক্ষ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকরা কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।
একটি সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালানোর পর সাভার পৌরসভার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মানিক মোল্লার স্ত্রী সাভার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ দিল আফরোজা শামীম পদত্যাগ করেন। তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডেকেট অনিয়ম করে আসছিল। যার কারণে কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে যারা সরকারি হয়েছেন তারা নিয়মিত বেতন ভাতা পেতেন। কিন্তু অস্থায়ী ও খন্ডকালীন/অতিথি শিক্ষকরা বেতনভাতা পেতেন না।
সূত্র আরো জানায়, এখনো শিক্ষকদের মধ্য থেকে ২/৩ জন শিক্ষক সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান অধ্যক্ষ মো: জহিরুল ইসলাম ধীমানকে ভুল বুঝিয়ে জটিলতা সৃষ্টির পায়তারা করছেন। ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক মো: আরিফ হোসেন জানান, ‘আমাদের চালু বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একাডেমিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক কলেজ ফান্ড থেকে আমরা বেতন দাবি করছি। মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদফতরের (ডিজি) সব দফতরে আমাদের ২২ জন শিক্ষকের কাগজপত্র রয়েছে।
তিনি আরো জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজি প্রতিনিধি না থাকায় আমরা বাদ পড়েছি, না হলে আমরা সরকারী হয়ে যেতাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একজন শিক্ষক জানান, বর্তমান বাজারে আমরা বেতন না পেয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছি। শিক্ষক হিসেবে ইচ্ছা করলেই অন্য কোনো পেশায় যেতে পারি না। এমনকি কারো কাছে দুঃখ কষ্টের কথা বলতে পারছি না।
অধ্যক্ষ মো: জহিরুল ইসলাম ধীমান নয়া দিগন্তকে জানান, ২২ জন আমাদের অতিথি শিক্ষক। আমি বলেছি তাদের সেমিনার ফান্ড থেকে বেতন নেয়ার জন্য, কিন্তু তারা বলছেন কর্মচারীদের অত্যাবশ্যকীয় ফান্ড থেকে বেতন নিবে। আমি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়মের বাহিরে গিয়ে বেতন দিতে পারবো না। সে জন্য তারা আমাকে দুপুর ১২টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত আমার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।



