যশোরের চৌগাছা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুকুর সংস্কারের নামে ফসলি জমির মাটি বিক্রির ধুম পড়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জেল-জরিমানা ও মাটি পরিবহনের ট্রাক্টর জব্দসহ নানামুখী পদক্ষেপেও থামছে না মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য।
বিশেষ করে শীত মৌসুমেই এ উপজেলার বিভিন্ন নদীরপাড়, খাল, পুকুরসহ ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেয়ার হিড়িক পড়ে। এসব মাটি পরিবহনের সময় ট্রাক থেকে পাকা সড়কে মাটি পড়ে রাতের কুয়াশায় ভিজে পিচ্ছিল হয়ে যায় সড়ক পথ। এতে গ্রামীণ সড়কগুলোর অবস্থা এমনি নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয় যে রিকশা-ভ্যান ও মোটরবাইক চালক ও যাত্রীরা অহরহ দুর্ঘটনায় পড়ছে।
জানা যায়, আমন ধান উঠার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে শুরু হয় পুকুর সংস্কার, উঁচু-নিচু ফসলি জমি সমতলকরণ, জমিতে পুকুর খনন, নদীর পাড় ও খালের মাটিকাটার নানা আয়োজন। এসব মাটি চলে যায় সরাসরি ইটভাটায়।
এদিকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে অভিযোগ পেলেই স্থানীয় প্রশাসন অভিযানে নামছে, জরিমানা করছে, ট্রাক ও ট্রাক্টর জব্দ করছে। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না মাটি কাটার কাজ।
গত মঙ্গলবার উপজেলার হাকিমপুর, স্বরুপদাহ, সিংহঝুলী, পাশাপোল, নারায়ণপুর, পাতিবিলা, জগদিশপুর ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সরজমিন দেখা গেছে, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের সাঞ্চডাঙ্গা ও পাশের গ্রামে কমলাপুর এলাকা থেকে দিনে রাতে সমানতালে ট্রাকে করে মাটি চলে যাচ্ছে কমলাপুর মোড়ের সানি ব্রিক ও এম ডব্লিউ ইউ বি ইটভাটায়।
এলাকবাসীর অভিযোগ, পুকুরের কাদামাটি ট্রাকেবোঝাই করে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার পথে ট্রাক থেকে কাঁদামাটি পড়ে সড়ক পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়। এতে যান চালাতে ও পায়ে চলতে বিঘœ ঘটছে। এ ছাড়া এসব কাদা শুকিয়ে যে ধুলায় রূপ নেয়, এতে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্র্র্থীসহ সাধারণ পথচারীদের শাসকষ্টসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে এমডব্লিউইউবি ইটভাটার ম্যানেজার নুর আলম বলেন, আমাদের ভাটাই সাঞ্চডাঙ্গা এলাকা থেকে মাটি আসছিল। সেটা উপজেলা প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে পাশের সানি ভাটা কমলাপুর থেকে মাটি আনা হচ্ছে। এমডব্লিউইউবি ইটভাটার মালিক জিলান শেখ বলেন, পুকুর সংস্কার করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা বলেন, পুকুর সংস্কার নামে কেউ যদি ইটভাটায় মাটি নিয়ে যায় সেটা স¤পূর্ণ অবৈধ। কোথাও অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশকিছু ভেকু ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান কিন্তু অব্যাহত রয়েছে।