জীবন বাজি রেখে খাসিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বন রক্ষা এবং খাসিয়াদের কবল হতে বনভূমি উদ্ধার করে সামাজিক বনায়ন করায় কুলাউড়া রেঞ্জের চৌকস বন কর্মকর্তা হিসেবে অর্জুন দস্তগীর সুনাম কুড়িয়েছেন পুরো সিলেট ডিভিশনে। বন কর্তৃপক্ষ এ বন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে খুবই সন্তুষ্ট। কিন্তু সরকারি চাকরি বিধিমালা মানতে গিয়ে এ কর্মকর্তাকে কুলাউড়া নলডরী বিট থেকে বদলি করে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বিটে বদলি করা হয়েছে। কর্মধায় সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তাকে কুলাউড়ায় রাখতে।
উপকারভোগীদের বক্তব্য, তার চাকরিকালীন সময়ে ৫০০ একর বনভূমি খাসিয়াদের কবল থেকে উদ্ধার করে বনায়ন করেন তিনি। প্রায় তিন কোটি টাকার বনভূমি উদ্বার করে আমাদের সামাজিক বাগান করে দিয়েছেন। এ ছাড়াও ডলুছড়া পাহাড়ি বনে ২৬০ একর বনভূমি খাসিয়াদের কবল থেকে উদ্বার করে বিট কর্মকর্তা বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ছাড়াও ২৪০ একর বনভূমির দখল নিতে খাসিয়ারা স্বত্ব মামলার রায় নিম্ন আদালতে তাদের পক্ষে নিলেও রায়ের বিরুদ্বে উচ্চ আদালতে আপিল করেন ওই বিট কর্মকর্তা।
এলাকাবাসী জানান, তিনি মুরাউছড়া ও নলডরী বিটে গত পাঁচ বছরে কোটি কোটি টাকার ভূমি উদ্বার করেছেন খাসিয়াদের কবল থেকে। প্রায় দুই শ’ মানুষকে বনায়নে সম্পৃক্ত করে করেছেন স্বাবলম্বী। ২০০ উপকারভোগী আগামী পাঁচ-ছয় বছর পরে গাছ বিক্রি বাবদ পাবেন কয়েক কোটি টাকা। উপকারভোগী নেতা হারিছ মিয়া জানান, তিনি আরো কয়েক বছর থাকলে কর্মধার পাহাড়ি এলাকা আরো খাসিয়ামুক্ত হতো।
এ ব্যাপারে বিট কর্মকর্তা অর্জুন দস্তগীর জানান, কুলাউড়ার কর্মধায় মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি তা আজীবন মনে থাকবে। সরকারি দায়িত্বের পরও মানুষের জন্য কাজ করেছি। ডিপার্টমেন্ট আমার ওপর খুশি এলাকাবাসীও খুশি। আগামী কর্মস্থলেও এভাবে সফলতার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, কুলাউড়া রেঞ্জের নলডরী বিট কর্মকর্তা হিসেবে অর্জুন দস্তগীর পাঁচ বছর চাকরি করায় গত বুধবার সন্ধ্যায় তাকে নলডরী কার্যালয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।