আট বছর আগে হারিয়েছেন স্বামীকে। ছেলে দুটোর মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন সংসারে পা বাড়াননি আর। স্বপ্ন দেখছিলেন, তার ছেলেরা বড় হয়ে মায়ের দুঃখ ঘুচাবে। কিন্তু বিধি বাম। বড় ছেলে মুমিনুলকে ছুরিকাঘাতে শেষ করে দিলো পাশের গ্রামের সন্ত্রাসীরা। স্বামী-সন্তানহারা খুরশিদা বেগমের চোখে এখন ঘোর অমানিশা। এক সপ্তাহ হলো তার কলিজার টুকরা ছেলে খুন হয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, কোনো কারণ ছাড়াই হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো পুটিবিলা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র মুমিনুল। তারা আরো জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া এলাকার একটি মাদরাসার বার্ষিক সভায় গিয়েছিল মুমিনুল। এ সময় একপক্ষের সাথে আরেকপক্ষের কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় মুমিনুল ঘটনাস্থলে ছিল না। পরে তাকে দেখে হামলে পড়ে কিশোর গ্যাং। এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শকিল আর সাকিব মুমিনুলকে পেছন দিক থেকে ঝাপটে ধরে এসময় মোহাম্মদ আলী রিয়াদ উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করায় ঘটনাস্থলেই মুমিনুল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
মমিনুলের মা খুরশিদা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ছেলেটা কোনো অপরাধ করেনি। আমার ছেলের খুনিরা কি বিচারের আওতায় আসবে না?’
এ ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাবাবাসী। তারা বলছেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছেন না। এ দিকে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে ৬ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন করে পুটিবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
লোহাগাড়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা আসামি গ্রেফতারের সম্ভাব্য স্থানগুলোয় অভিযান পরিচালনা করছি। খুব শিগগিরই আসামিরা ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’