একটানা ২২দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বুড়িমারী স্থলবন্দরে গতকাল রোববার থেকে ভারত ও ভুটান থেকে পাথর আমদানি শুরু করা হয়েছে। এর ফলে বন্দরটি আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ফিরে গেছে তার নিজস্ব স্বকীয়তায়। বেকার হয়ে পড়া হাজার হাজার শ্রমিক কাজে ফিরে পেয়েছে।
জানা গেছে, বুড়িমারী আমদানি রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন গত মাসের ২১ জানুয়ারি বোল্ডার পাথরের ডলার মূল্য না কমালে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও ভুটানের পাথর আমদানি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। তাদের এই ঘোষণার পর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাথরকেন্দ্রিক বুড়িমারী বন্দরের শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। বন্দরে ঢুকতে না পেরে সীমান্তের ওপারে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধায় শত শত ট্রাক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় সরকার। অবশেষে আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার পর পাথর আমদানি শুরু হয়েছে।

বুড়িমারী আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু রাইয়ান আশয়ারী রছি বলেন, গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় অ্যাসোসিয়েশনের বেঠক শেষে বুড়িমারী বন্দরের জিরো লাইনে ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক উত্তম সরকার এবং তার প্রতিনিধিদের সাথে কুশল বিনিময় করা করা হয়। এরপর দু’দেশের অ্যাসোসিয়েশনের উপস্থিতিতে পাথর আমদানি চালু করা হয়। তবে বুড়িমারী বন্দরে কেউ যাতে পাথরের বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে সেজন্য আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমির হামজাকে প্রধান সমন্বয়ক করে ১২ সদস্যের একটি বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।

বোল্ডারের রেট দেয়া হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন সর্বোচ্চ ২২ শ’ থেকে দুই হাজার ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। এই দরে বোল্ডার বিক্রয় করা হলে বাজার স্তিতিশীল থাকবে অন্য দিকে আমাদের ডলার সাশ্রয় হবে। তবে আমরা তাদের (ভারতীয়) রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনকে নির্দিষ্ট টার্গেট দেয়া হয়েছে আগামী মার্চ থেকে আমরা ১৪ ডলারে এলসি ওপেন করব। তারাও আমাদের কাছে সময় চাওয়ায় আগের ডলার মূল্যে যেসব এলসি ওপেন করা ছিল লাইনে থাকা ওই পাথরগুলো আমরা নিচ্ছি।
বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, তারা (ভারতীয় রফতানিকারকরা) আমাদের দাবি মেনে নেয়ায় গতকাল থেকে পাথর আমদানি আবার শুরু করা হয়েছে।