গ্র্যান্ড হানিফ অ্যান্ড ট্রাভেলস এজেন্সির বিরুদ্ধে হজে পাঠানোর নামে মুসল্লিদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের কোনো বৈধ হজ এজেন্সি না থাকলেও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিভিন্ন কাফেলা বা গ্রুপ তৈরি করে নিরীহ মুসল্লিদের প্রতারণার ফাঁদে আটকে আদায় করছে মোটা অঙ্কের অর্থ।
অভিযোগ করা হচ্ছে, গ্র্যান্ড হানিফ টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এজেন্সি হজ নিবন্ধনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোবাইল ফোনে কল করে কিংবা খুদে বার্তা পাঠিয়ে তারা মানুষকে হজের দাওয়াত দিচ্ছে। হজ গমনেচ্ছু অনেকেই সরল বিশ্বাসে এ চক্রের সদস্যদের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানা এলাকার বড়বিলা গ্রামের আলহাজ রুহুল কুদ্দুস মোল্লার ছেলে মো: আবির হোসেন কপিলমুনি এলাকার মো: মুনসুর আলী সরদারের কাছে ফোন করে পবিত্র ওমরাহ হজে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। পরে মো: মুনসুন আলী সরদার, তার মেয়ে লতিফা শারমিন ও নাতনী আনাস্তাসিয়া মিনহাজুল সনজিকে ওমরায় পাঠানোর চুক্তিতে পাসপোর্ট জমা নিয়ে চার দফায় মোট দুই লাখ টাকা নিয়ে তিনজনের ভিসা দিয়ে গত বছর ২৪ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকায় যেতে বলে। সে মোতাবেক তারা ঢাকায় পৌঁছে সেখানে পাঁচ দিন অপেক্ষার পর সংশ্লিষ্ট এজন্সির নাম-ঠিকানা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে যান। এরপর তিনি নিজে, মেয়ে ও নাতনীকে হজে নিতে না পারার কষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতারক চক্রের দেয়া মানি রিসিটে উল্লেখিত মোবাইল ফোনে কল দিলেও রিসিভ হয় না।

মুনসুর সরদার জানান, বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ, উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারত যাবেন। তবে পাসপোর্টটি আটকে রাখায় তিনি চিকিৎসা নিতে ভারতে যেতে পারছেন না।
তিনি আরো জানান, ব্যাপক খোঁজখবর নিয়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, গ্র্যান্ড হানিফ টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এজেন্সির হজ নিবন্ধনের কোনো বৈধতা নেই। তারা মানুষকে হজ নিবন্ধনের নামে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।
সর্বশেষ ঘটনায় প্রতারণার শিকার মুনসুর আলী সরদার ও তার পরিবার ভূঁইফোড় সংগঠনের নামে প্রতারকদের চিহ্নিতপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।