রাজশাহীর বাগমারার দ্বীপপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান, সাবেক চেয়ারম্যান, ৫ জন ইউপি সদস্য ও দু’জন গ্রামপুলিশ সদস্যসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলার আসামীরা হুমকি প্রদানের অভিযোগে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। আদালতে দায়েরকৃত এই পাণ্টা মামলায় বাদী হয়েছেন একই ইউনিয়নের চকহরি নারায়ন কুন্ডু গ্রামের চাঁদাবাজি মামলার আসামী নজরুল ইসলাম ও কায়েদ-ই-আযমসহ মোট ১৪ জন ব্যক্তি।
আদালতে দায়েরকৃত মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নের লিকড়া বিলে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে লিকড়া বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের ক্যাশিয়ার গিয়াস উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার উপর হামলার ঘটনায় ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সম্প্রতি ৯ জনের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় পুলিশ নজরুল ইসলাম ও তার ভাই তোফাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। গ্রেফতারকৃত সহোদরসহ অন্য আসামীরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর ওই মামলা থেকে বাঁচতে দ্বীপপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল, সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ চন্দ্র ভৌমিক, ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন, ইউপি সদস্য আফসার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য যথাক্রমে- ওয়াজেদ আলী, দুলাল হোসেন, লুৎফর রহমান দুলাল এবং গ্রামপুলিশ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ও দুলালসহ মোট ১২ জনকে আসামী করে গত ২৪ মে আদালতে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে দাবি করা হয়েছে গত ১৮ মে সকাল ১০ টার দিকে বাদীরা লিকড়া বিলস্থ তাদের তফশীল বর্নিত সম্পত্তি দেখা-শোনা করার নির্মিত্বে কায়েদ-ই-আযমের পিতার তফশীল বর্নিত সম্পত্তির ৮১ নং দাগে উপস্থিত হলে আসামীরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তাদের ধাওয়া করে এবং প্রান নাশের হুমকি দেয়। এছাড়া তফশীল বর্নিত তাদের মালিকানা জমিতে কোনো প্রকার ফসলাদী উৎপাদন করতে দিবে না এবং খননকৃত কূয়ায় কোনো প্রকার মাছ চাষ করতে কিংবা মাছ ধরতে দিবে না মর্মে হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লিকড়া বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় যে ১৪ জন ব্যক্তি বাদী হয়েছে তাদের মধ্যে সবরা, বুদাই, রেজাউল করিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মন্টু ও কায়েদ-ই-আযমের লিকড়া বিলে মালিকানা কোনো জমি নাই এবং ১নং বাদী নজরুল ইসলাম এক সময় লিকড়া বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের মূল পরিচালনা কমিটির সদস্য থাকা অবস্থায় অর্থ আতœসাতের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। অন্য অভিযোগকারী সৈয়দ আলী, আকবর আলী, লুৎফর রহমান ও কায়েদ-ই-আযমের বাবা আবুল কাশেমের আমাদের প্রকল্পে অংশ রয়েছে এবং লিকড়া বিলে তাদের যে পরিমান জমি রয়েছে তা আমাদের প্রকল্পের চুক্তিপত্রে আগামী ১০ বছরের জন্য স্বাক্ষর করে দিয়েছে। দ্বীপপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, কায়েদ-ই-আযম আমমোক্তা নামা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ১৩ জনের কাছে থেকে জমির খতিয়ান সংগ্রহ করেছে বলে মামলায় দাবি করলেও অভিযোগপত্রের সাথে তা সংযুক্ত করেতে পারেনি। তবে মামলার কপির সাথে জমি সংক্রান্ত যে সব কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে তাতে খতিয়ানে জমির প্রকৃত কোনো মালিকের নাম নাই। এ কারণে সব কাগজপত্র সে নিজেই ভূয়াভাবে তৈরি করেছে। তাছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদীদের মধ্যে ৭ জনই বিল পক্ষের দায়ের করা চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টার মামলার আসামী।
অপরদিকে কায়েদ-ই-আযম ও নজরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু তারা আমাদের বিরুদ্ধে পরপর দুইটি মামলা করেছে, কাজেই তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরও মামলা করার অধিকার আছে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ বলেন, দ্বীপপুর ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদানের অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে একটি কাউন্টার মামলা থানায় এসেছে। তবে তদন্ত না করে মামলাটির বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।