গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা ১ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন গত ২৯ এপ্রিল অবসরে যান। তারপর থেকেই ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় গরিব ও অসহায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারীরা ২৩ কিঃমিঃ দূরে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে পারছেননা।
গোহালা ইউনিয়নের ৬০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে সরকার গোহালা ইউনিয়নে একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করে। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হয়। এখানে জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও
উপসহকারী মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন একাই এতদিন ওই ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠিকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছিলেন। তিনি অবসরে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি একেবারেই অচল হয়ে পড়েছে। সেখানে চিকিসা সেবা দেয়ার মতো কোন জনবল নেই। তাই ভেঙ্গে পড়ছে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা। ফলে পশ্চাদপদ গোহালা ইউনিয়নবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছেননা। খালি হাতেই ফিরছেন বাড়ি।
গোহালা গ্রামের বৃদ্ধ কাজী মোমিন উদ্দিন (৯২) বলেন, আমি কোমড় ব্যাথায় ভুগছি। গত ১ মাসের মধ্যে ৫ দিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসেছি। কিন্তু কোন ডাক্তার নেই। তাই চিকিৎসা পাচ্ছিনা। প্রইভেট চেম্বার, ক্লিনিক অথবা মুকসুদপুর হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর সঙ্গতি আমার নেই। তাই নিরুপায় হয়ে কোমড় ব্যাথায় প্রচন্ড কষ্ট পাচ্ছি। গোহালা ইউনিয়নের ভট্টাচার্যের কান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খোরশেদ শেখ একই গ্রামের নূর ইসলাম শেখ বলেন, ডাক্তার অনোয়ার হোসেন একাই এতদিন এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র সামাল দিয়েছেন। ১মাস আগে তিনি অবসরে গেছেন। তারপর থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে গোহালা ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রান চাই।
গোহালা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন, নি¤œ জলাভূমি বেষ্টিত আমার ইউনিয়নে ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। স্বাস্থ্য সেবায় এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ কেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ও ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
টাকা খরচ করে ২৩ কিঃ মিঃ দূরে মুকসুদপুর উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ আমার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নেই। তাই এ জনগোষ্ঠির ঘরের দোড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে অনুরোধ করছি।
সিভিল সার্জন ডা. তরুন মন্ডল ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এছাড়া মুকসুদপুর স্বাস্থ্য বিভাগকে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিকল্প ব্যবস্থায় সপ্তাহে অন্তত ২ দিন চিকিৎসা সেবা চালু করতে নির্দেশ দিয়েছি।
মুকসুদপুরের গোহালা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা ১ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন গত ২৯ এপ্রিল অবসরে...



