গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ক্রিকেট খেলায় রান সংগ্রহ করতে না পারার দ্বন্দে এক খেলোয়াড়ের ছুরিকাঘাতে অপর এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা ওই খেলোয়াড়কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। নিহতের নাম মামুন (১৭)। সে কাপাসিয়া উপজেলার আড়াল গ্রামের মৃত ফরিদ আহমদের ছেলে।
কাপাসিয়া থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আড়াল গ্রামের উঠতি বয়সের কিশোর-তরুণদের দুটি পক্ষ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাজিতে স্থানীয় ইটখোলা মাঠে ক্রিকেট খেলে একটি পক্ষ হেরে যায়। খেলায় রান সংগ্রহ করতে না পারায় মামুনের সঙ্গে খেলোয়াড় শাওনের বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় শাওন তার কয়েক সহযোগিকে নিয়ে মামুনের উপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা এসময় মামুনের বুকে ছুরিকাঘাত করে। আহত মামুনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা মামুনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। এলাকাবাসী এসময় শাওনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটক শাওন বর্মণ (১৮) একই গ্রামের (আড়াল) বর্মণ পাড়ার পরিদাশ বর্মণের ছেলে।
এ ঘটনায় শনিবার নিহতের মা হাদিয়া বেগম হাদী কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে গ্রেফতারকৃত শাওন শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ শনিবার শহীদ তাজ উদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
আরো পড়ুন :
ঋণের চাপে গার্মেন্ট মালিকের আত্মহত্যা
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা
ঋণের বোঝায় অতিষ্ঠ হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক গার্মেন্টস মালিক আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যাকারী আব্দুল মতিন (৪৭) রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান এনএম ফ্যাশনের মালিক। পুলিশের দাবি ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন লোকের কাছের প্রায় আড়াই কোটি টাকা ঋণ থাকায় আত্মহত্যা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগে ঋণের বিষয়গুলো লিখে যাওয়া খাতাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে ফতুল্লায় মাসদাইর পাকাপুল এবি প্লাজার সপ্তম তলায় ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। দুপুর ১টায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আব্দুল মতিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। সে পরিবার নিয়ে মাসদাইর পাকাপুলস্থ এবি প্লাজার সপ্তম তলায় নিজস্ব ফ্লাটে বসবাস করতেন।
নিহত আব্দুল মতিন স্ত্রী নাদিরা আক্তার রেখা, ছেলে মাহাদী হাসান সাইম (৮) ও মেয়ে ফাতেমা আক্তার জোহরা (১৫) রয়েছে।
আব্দুল মতিনের স্ত্রী নাদিরা আক্তার রেখা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, উনার কত কোটি টাকা ঋণ আছে আমাদের কিছুই জানান নি। এদিকে নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, ঋণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সে সমস্যায় থাকলেও কখনো কাউকে কিছু বলেন নি। নিজের কষ্ট নিজের কাছেই চেপে রাখতো। গত বছর মতিনের দেড় কোটি টাকা ঋণ আমি পরিশোধ করেছি। কেন সে আত্মহত্যা করলো বুঝতে পারছি না।
ঘটনাস্থলে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ঋণের টাকার জন্য গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন।
আরো পড়ুন :
পিতা নিহত পুত্র আহত
এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)
ডাকাতের হাতে পিতা নিহত পুত্র আহত। (ইনসেটে) নিহত পিতা। ছবি - নয়া দিগন্ত।
যশোরের চৌগাছায় ডাকাতদের হাতে পিতা নিহত এবং পুত্র আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের শাহাজাদপুর গ্রামের কাতলাগুড়োর ব্রীজ মাঠে।
জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে চৌগাছা-বেনাপোল ভায়া কাবিলপুর সড়কের শাহাজাদপুর বিজিবি ক্যাম্পের পাশে কাতলাগুড়োর ব্রীজের উপর এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা আশরাফ হোসেন আশা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গলায় ফাঁস ও ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করে এবং তার ছেলে জসিম উদ্দীন (২৮)কে পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে যখম করে। নিহত আশরাফ হোসেন আশা উপজেলার ধুলিয়ানি ইউনিয়নের ছোট কাবিলপুর গ্রামের আনছার আলীর ছেলে।
এ সময় ওই সড়কে প্রায় ৩০০ মিটারের মধ্যে বিজিবি ও পুলিশের দুটি টহল দল দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া নিকটবর্তী শাহাজাদপুর বিজিবি ক্যাম্পে বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। নিহতের মেজে ছেলে ইকরামুল হোসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত রয়েছেন। নিহতের বড় ছেলে ও ঘটনায় আহত জসিম উদ্দিন জানান, তিনি কিছুদিন আগে কাতার গিয়েছিলেন। সেখানে চুক্তিমতো কাজ না পাওয়ায় দেশে ফিরে আসেন। শুক্রবার রাত দশটার দিকে তিনি ঢাকা থেকে চৌগাছায় পৌঁছান।
তিনি বলেন, বাবা আশরাফ হোসেন মোটরসাইকেল যোগে আমাকে নিতে চৌগাছা যান। আমরা পিতা-পুত্রে মোটরসাইকেলযোগে চৌগাছা থেকে গ্রামের বাড়ী ছোট কাবিলপুর ফিরছিলাম। ওই সড়কের ঢেকিপুতায় মোড়ে পৌঁছলে সড়কে একটি ট্রাক লাইট জালিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা শাহাজাদপুর বিজিবি ক্যাম্পের ১৫০ হাতের মধ্যে পৌঁছে বুঝতে পারি সড়কে একটি গাছে দড়ি বাঁধা। দড়িতে আটকে আমরা সড়কে পড়ে যাই। এ সময় ৮/১০ জন ডাকাত আমাদের পেটাতে থাকে। ডাকাতদের একজন আমাদের মোটরসাইকেলটি (যশোর হ- ১৩-০৯৬৬) নিয়ে চৌগাছার দিকে চলে যায়। আমি দৌড়ে বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে ক্যাম্পের সদস্যদের কাছে সহায়তা চাই। কিন্তু ক্যাম্প থেকে কেউ বের না হয়ে আমাকে ভিতরে ঢুকায়ে নানা প্রশ্ন করতে থাকে। ঘটনাস্থলে থাকা ট্রাকটি তখন ক্যাম্পের সামনে দিয়ে চলে যেতে দেখে আমি বিজিবি সদস্যদের ট্রাকটি আটকাতে বলি। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সেখান থেকে হতাশ হয়ে জসিম ঘটনাস্থলে ফিরে দেখেন, তার বাবার নিথর দেহ মাটিতে পড়ে আছে। ট্রাকটি বাবাকে চাপা দিয়ে চলে গেছে। এ সময় তার কান্নাকাটি ও চিৎকারে দশপাকিয়া ক্যাম্পের টহলরত পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। লাশটি শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শাহাজাদপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আফজাল হোসেন বলেন ঘটনার সময় আমাদের একটি টহল দল মশ্মমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ছিল। ক্যাম্প থেকে এই স্কুলটির দূরত্ব মাত্র ৩০০ মিটার। অন্যদিকে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ এই ৩০০ মিটারের মধ্যেই দশপাকিয়া পুলিশ ক্যাম্পের একটি দলও টহলে ছিল।
নিহতের স্ত্রী রাহিমা বেগম বলেন মাত্র ৩০০ মিটারের মধ্যে পুলিশ ও বিজিবির দুটি টহল দল এবং বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা থাকলেও কীভাবে এই লোমহর্ষক ঘটনা ও নির্মম হত্যা ঘটে গেল, আমার মনে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী বলছেন একই স্থানে গত ১৪ মে পুলিশ পরিচয়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা তিন ডাকাতকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিল। পরে জানা যায়, সেই ডাকাতদলের সদস্যরা সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
ধুলিয়ানি ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, আগের দিনও ধুলিয়ানি থেকে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে দুই যুবকের কাছ থেকে ওই এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই হয়। রাত দশটার দিকেই পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা আমার বাড়ির সামনে দিয়ে ওই সড়কে টহল দিতে যান। অথচ এসময়ের মধ্যেই সেই সড়কে এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেল।
চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।



