রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামের কবরস্থানের পাশে থাকা ওয়েলকামপার্টির আস্তানা পুলিশকে দেখিয়ে দেওয়ার অপরাধে রবিবার সকালে দু,জনকে হত্যা চেষ্টা, মারপিটসহ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ওয়েলকামপার্টির সদস্যরা। মারপিটের শিকার হয়ে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের চরঘিকমলা গ্রামের মোহন মন্ডলের ছেলে দুলাল মণ্ডল (৩৫) ও বাকসাডাঙ্গী গ্রামের আহম্মদ মন্ডলের ছেলে আহেদ মণ্ডল ( ৪০)। দুলাল মণ্ডল বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

মারপিটের শিকার মোঃ দুলাল মণ্ডল জানান, উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের চরবিলধামু(বাকসাডাঙ্গী) গ্রামের জাকির মণ্ডল ওরফে জোকার ছেলে শাহীন মণ্ডল (৩০), সালেক মণ্ডল ছেলে মিলন মণ্ডল (২৭), বাকসাডাঙ্গী গ্রামের গেদা মণ্ডল ছেলে সুমন মণ্ডল (২৫), চরবিলধামু (বাকসাডাঙ্গী) গ্রামের মিঠু মণ্ডল ছেলে আরিফ মণ্ডল (২০), বাকসাডাঙ্গী গ্রামের মিলন মণ্ডল ছেলে মারুফ মণ্ডল (২০), কিতাই ফকীরের ছেলে উজ্জল ফকীর (৩০), শাহজাহান আলীর ছেলে সজল (২২), আবজাল মণ্ডল ছেলে সজিব ( ২২), চরবিলধাম গ্রামের খালেক মণ্ডল ছেলে নাসির হোসেন (২৫) দীর্ঘদিন ধরে একত্রে মোবাইলে প্রতারনাকারী চক্র ( ওয়েলকামপার্টি) সদস্য।

এরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে মানুষের সাথে মোবাইলে প্রতারনা করে আসছে। বিষয়টি এলাকার লোকজনও অবগতসহ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করলে গত ৮ জুন রাতে বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ পরিদর্শন (তদন্ত) মোঃ আবুল কালাম ভুঁঞা, এস,আই জাকির হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা ওয়েলকাম (টোপ) পার্টির আস্তানায় অভিযান চালায়। তবে পাহাড়াদারদের ইশারায় পুলিশের অভিযান ব্যাহত হয়। দু,জন পাহারাদারকে আটক করে।

ওয়েলকামপার্টির স্থান দেখিয়ে দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে রবিবার সকাল ১০টার দিকে দুলাল মণ্ডল ও তার চাচাতো ভাই আহেদ মণ্ডল (৪০) বাড়ী থেকে ভ্যানযোগে নারুয়া বাজারে আসার পথে বাকসাডাঙ্গী গ্রামের হাচেন গাছির বাড়ীর সামনে পৌছালে পুর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা টোপপার্টির সদস্যরা পথরোধ করে। দেখি তোদের পুলিশ কিভাবে রক্ষা করতে পারে এ কথা বলে দুলালকে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় আহেদ মণ্ডল তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে গেলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে নীলা, ফোলা, কাটা, জখম করে। মারপিটে আহেদ মাটিতে পড়ে গেলে তার বুক পকেটে থাকা ২৬ হাজার ৩০টাকা জোড়পুর্বক ছিনিয়ে নেয়।

এলোপাথারী ভাবে দুলাল মণ্ডল ও আহেদ মণ্ডলকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে নীলা, ফোলা, জখম করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে তারা হুমকি দিয়া বলে যে, আজ বেচে গেলি, পরে তোদের পিটিয়ে জীবনে শেষ করে দিব বলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে নারুয়া বাজারে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করায়। শারিরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করে। এব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ হাসিনা বেগম জানান, বিষয়টি তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।